ইফতেখার হোসাইন ,প্রতিবেদক :

প্রাচীন গ্রিক ভাষায় লেখা ২,০০০ বছরের পুরনো একটি পাণ্ডুলিপি থেকে প্রথম উন্মোচিত শব্দগুলোর মধ্যে একটি হলো ‘বিরক্তি’। এই পাণ্ডুলিপিটি ৭৯ খ্রিস্টাব্দে মাউন্ট ভিসুভিয়াসের অগ্ন্যুৎপাতে পুড়ে যাওয়া শত শত পাণ্ডুলিপির একটি।

যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বোডলিয়ান লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত এই ঐতিহাসিক পাণ্ডুলিপিটি 'PHerc. 172' নামে পরিচিত। এটি ভিসুভিয়াস চ্যালেঞ্জ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ভার্চুয়ালি উন্মোচিত হওয়া পঞ্চম অক্ষত হারকিউলেনিয়াম পাণ্ডুলিপি। এই প্রকল্পটি প্রাচীন রোম ও গ্রিস সম্পর্কে অমূল্য তথ্য উন্মোচনে কাজ করছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কম্পিউটার প্রযুক্তি ব্যবহার করে পাণ্ডুলিপির লেখাগুলো সংযুক্ত ও স্পষ্ট করার কাজ চলছে। গবেষকরা প্রথমবারের মতো পাণ্ডুলিপির অভ্যন্তরে থাকা লেখার ছবি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।

বোডলিয়ান লাইব্রেরি জানিয়েছে, প্রাচীন গ্রিক শব্দ διατροπή (diatrope) যা ‘বিরক্তি’ অর্থে ব্যবহৃত হয়, পাণ্ডুলিপির কয়েকটি কলামে দুটি স্থানে পাওয়া গেছে।

অক্সফোর্ড লাইব্রেরির পরিচালক রিচার্ড ওভেনডেন বলেন, "এই আবিষ্কার ঐতিহাসিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। লাইব্রেরিয়ান, কম্পিউটার বিজ্ঞানী ও প্রাচীন সাহিত্য বিশেষজ্ঞরা একত্রে এক যুগান্তকারী কাজ করছেন।"

কেন্টাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞানী ও ভিসুভিয়াস চ্যালেঞ্জের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ব্রেন্ট সিলস বলেন, অক্সফোর্ডের এই পাণ্ডুলিপিতে অন্যান্য হারকিউলেনিয়াম পাণ্ডুলিপির তুলনায় সবচেয়ে বেশি পাঠযোগ্য লেখা পাওয়া গেছে।

গবেষকরা মনে করছেন, এই পাণ্ডুলিপির কালি লেড জাতীয় কোনো উপাদান দিয়ে তৈরি হওয়ায় এক্স-রে স্ক্যানে তা স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। তবে সঠিক কালি নির্ধারণে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন।

সিলস জানান, পাণ্ডুলিপির লেখাগুলো পুরোপুরি পড়ার জন্য সফটওয়্যার পদ্ধতি আরও উন্নত করতে হবে। বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধু লেখার কালির স্পষ্টতা বাড়াচ্ছে। তবে লেখাগুলোর পুরো ট্রান্সক্রিপশন ও অনুবাদ মানব গবেষকদের ওপর নির্ভর করছে।

গবেষকরা আশা করছেন, পাণ্ডুলিপির অভ্যন্তরের লাইনগুলো আরও পরিষ্কারভাবে দৃশ্যমান হবে এবং সম্ভবত পাণ্ডুলিপির শিরোনামও সংরক্ষিত থাকতে পারে।

/হ্যাভেন টিভি ডট প্রেস

ভিডিও নিউজ পেতে ক্লিক করুন এবং সাবস্ক্রাইব করুন Heaven tv.pres