
জাতিসংঘে আবারও আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ জানিয়েছে, আফগান ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কাবুল যদি স্পষ্ট ও কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়, তবে পাকিস্তান তার নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।—জিও নিউজ।
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে এই সতর্কবার্তা দেন জাতিসংঘে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আসিম ইফতিখার আহমেদ। তিনি বলেন, আফগানিস্তান আবারও বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও তাদের সহযোগীদের জন্য ‘নিরাপদ আশ্রয়ে’ পরিণত হয়েছে। এর ফলে পাকিস্তানসহ আশপাশের অঞ্চলগুলোতে ভয়াবহ নিরাপত্তা হুমকি তৈরি হচ্ছে।
পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত জানান, তালেবানদের অবশ্যই তাদের মাটিতে অবস্থানকারী সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট এবং যাচাইযোগ্য ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে পাকিস্তান তার ভূখণ্ড, নাগরিক এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ নেবে।
তিনি উল্লেখ করেন, আইএস-কে, আল-কায়েদা, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি), পূর্ব তুর্কিস্তান ইসলামিক মুভমেন্ট, বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এবং মাজিদ ব্রিগেডসহ বহু সন্ত্রাসী সংগঠন আফগানিস্তানের ভেতরে নিরাপদ আশ্রয় পেয়ে থাকে। সেখানে ডজনখানেক সন্ত্রাসী ঘাঁটি গড়ে উঠেছে, যা থেকে তারা সীমান্ত অতিক্রম করে অনুপ্রবেশ, আত্মঘাতী হামলা এবং অন্যান্য সহিংস আক্রমণ চালায়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর টিটিপির হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যদিও টিটিপি আফগান তালেবান সরকারের অংশ নয়, পাকিস্তান তাদের মিত্র গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করে।
টিটিপির ক্রমবর্ধমান হামলার কারণে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সম্পর্কের উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই ইসলামাবাদ অভিযোগ করে আসছে যে, টিটিপি আফগান ভূখণ্ডকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করছে—যা কাবুল অস্বীকার করে।
এই উত্তেজনার মধ্যেই ৯ অক্টোবর কাবুলে এক ড্রোন হামলা হয়, যার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে আফগান তালেবান সরকার। এর পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক দ্রুত অবনতি ঘটে। সীমান্তে সংঘাত শুরু হয়, যাতে বহু প্রাণহানি ঘটে।
পরবর্তীতে পাকিস্তান সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করে দিলে বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ে এবং আফগানিস্তানে খাদ্য ও ওষুধের সংকট দেখা দেয়। পরে ১৯ অক্টোবর কাতারের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়; যা এখনো বহাল আছে। যদিও ইস্তাম্বুলে সাম্প্রতিক কয়েক দফা বৈঠক কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়েছে।
মন্তব্য (0)
প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।