
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে নির্মিত দেশের প্রথম সুড়ঙ্গপথ বা টানেল এখন পর্যন্ত প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ। টানেল চালুর ২১ মাসে (২০২৩ সালের ২৯ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ১৯ জুলাই পর্যন্ত) পার হয়েছে মাত্র ২৪ লাখ ২৮ হাজার ৩১৫টি গাড়ি। অথচ এই সময়ে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ কোটি ৩১ লাখ ২২ হাজার ৬৮১টি গাড়ি। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কমেছে ১ কোটি ৬ লাখ ৯৪ হাজার ৩৬৬টি গাড়ি, যা মাত্র সাড়ে ১৮ শতাংশ ব্যবহারের ইঙ্গিত দেয়।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, টানেল প্রকল্প চালু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত টোল আদায় হয়েছে ৬৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। দৈনিক গড়ে আয় হয়েছে ১০ লাখ ৭৪ হাজার টাকা, কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা ব্যয় ৩৭ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। প্রতিদিন গড়ে লোকসান হচ্ছে প্রায় ২৭ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে প্রকল্পটির মোট লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৯১ কোটি ৯০ লাখ টাকা।
নির্মাণ ব্যয় ছিল ১০ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা, যার মধ্যে ৬ হাজার ৭০ কোটি টাকার ঋণ নেওয়া হয়েছিল চীনের এক্সিম ব্যাংক থেকে।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ টানেলটিকে ‘শ্বেতহস্তী’ এবং ‘শোপিস’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, “রক্ষণাবেক্ষণ খরচও এখন উঠছে না। এটা বাহাদুরি করার প্রকল্প হলেও আমাদের সেই সামর্থ্য নেই।” সাবেক অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলাম বলেন, “এই টানেল প্রথম পাঁচ বছর সক্ষমতা অনুযায়ী ব্যবহার হবে না। মিরসরাই থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ তৈরি, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর চালু ও শিল্পায়ন না হলে এর সুফল পাওয়া যাবে না।”
আরো পড়ুন: শেষ সীমানায় দাঁড়িয়ে পৃথিবী বলছে: আর নয়!
টানেল দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের মধ্যে ৭৩ শতাংশই হালকা যান (কার, জিপ, মাইক্রোবাস)। ভারী ও পণ্যবাহী যানবাহনের সংখ্যা আশানুরূপ না হওয়ায় আয়ের পরিমাণও কমে যাচ্ছে।
সেতু কর্তৃপক্ষ মনে করছে, আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে টানেল পরিচালনায় ঘাটতি হবে ১৬৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। আয় হতে পারে ৩৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা, কিন্তু ব্যয় হবে ২০৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টানেলের সুফল পেতে হলে জাতীয়ভাবে সংযুক্ত অবকাঠামো, যেমন শিল্পাঞ্চল, মেরিন ড্রাইভ ও বন্দর-সংযোগ উন্নয়ন জরুরি। তা না হলে এই ব্যয়বহুল টানেল প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে এক অর্থনৈতিক বোঝা হয়েই থেকে যাবে।
মন্তব্য (0)
প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।