শেষ সীমানায় দাঁড়িয়ে পৃথিবী বলছে: আর নয়!

web 2 1

প্রতিদিনের সূর্যোদয় আর চেনা রূপে দেখা দিলেও, পৃথিবী আর আগের মতো নেই। বদলে যাচ্ছে তার রূপ, রং আর গন্ধ। জলবায়ুর অস্বাভাবিক আচরণ, দূষণ, বন উজাড়, অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণ—সব মিলিয়ে আজ এই নীলগ্রহটি যেন ক্রমশ বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে।

সম্প্রতি জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিশ্বে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ বায়ুদূষণজনিত রোগে প্রাণ হারায়। অনেক বড় শহরেই এখন বিশুদ্ধ বাতাস এক ধরনের বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে। ঢাকার মতো শহরে শিশুদের ফুসফুস দুর্বল হয়ে যাচ্ছে জন্মের আগেই।

তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে ভয়াবহ হারে। ২০২4 সালে পৃথিবীর গড় উষ্ণতা ছিল বিগত ১ লাখ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। বরফ গলছে মেরু অঞ্চলে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। ইতোমধ্যেই উপকূলবর্তী অনেক দেশের বাসিন্দারা বাস্তুচ্যুত হতে শুরু করেছেন।

আরো পড়ুন: গাজায় অনাহারে প্রতি ৩ জনে ১জন মানুষ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পৃথিবীর প্রতিবেশব্যবস্থা হুমকির মুখে। বহু প্রজাতির প্রাণী বিলুপ্তির পথে, অনেক উদ্ভিদ হারিয়ে যাচ্ছে নিঃশব্দে। খরা, বন্যা, দাবানল—সব প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেন আরও ঘন ঘন ও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

popup 13

এই সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে আমাদেরই জীবনধারা। অসচেতন ভোগবাদী সংস্কৃতি, লাগামহীন শিল্পায়ন আর পরিবেশবিনাশী কার্যক্রম পৃথিবীকে ঠেলে দিচ্ছে অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে।

তবে আশার আলো এখনো নিভে যায়নি। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, সচেতনতা বৃদ্ধি, সবুজায়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে এখনো পৃথিবীকে রক্ষা করা সম্ভব।
প্রয়োজন শুধু একটি সম্মিলিত ও আন্তরিক উদ্যোগ।

না হলে, এই নীলাভ গ্রহটির ইতিহাস হয়তো একদিন লেখা হবে “একটি হারিয়ে যাওয়া পৃথিবীর গল্প” হিসেবে।

প্রতিবেদক- ফাহিম মুনতাসির