জামায়াতে ইসলামী আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশ সেবার সুযোগ পেলে তাঁর দল কয়েকটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেবে। তিনি বলেন, “আমরা দেশের ভাঙাচোরা, অকার্যকর ও অপ্রয়োজনীয় শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করব। এমন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলব যা মানুষকে প্রকৃত মানুষ বানাবে, নাগরিককে দেশ গড়ার কারিগরে পরিণত করবে। এমন শিক্ষা দিতে চাই যাতে শিক্ষার্থীরা সার্টিফিকেট হাতে নিয়েই যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি বা উদ্যোক্তা হতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা দুর্নীতির শিকড় কেটে ফেলতে চাই। ক্ষমতায় না গেলেও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে। দেশে এখন ন্যায়বিচার নেই। পবিত্র কোরআন যে ন্যায়বিচারের শিক্ষা দিয়েছে, আমরা সেটাই প্রতিষ্ঠা করব। আইন অপরাধকে দেখবে, অপরাধীকে নয়। আইনের পাল্লা কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র হয়েছে, কিন্তু আমরা সেই পাল্লা ধরে রাখব।”

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা দেশ, জাতি ও রাষ্ট্র হিসেবে মর্যাদার সঙ্গে টিকে থাকতে চাই। আমরা দুনিয়ার সব মানুষকে সম্মান করব, কিন্তু কাউকেই প্রভু হিসেবে মানব না। আমাদের একমাত্র প্রভু আল্লাহ। আমাদের সম্পর্ক হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে। আমরা অন্যদের ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দেব এবং আমাদের ন্যায্য অধিকারও বুঝে নেব।”

অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “দেশটাকে ফোকলা করে ফেলা হয়েছে। লুটপাটের মাধ্যমে অর্থনীতি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সদিচ্ছা, সততা ও কঠোর পরিশ্রম থাকলে এই জাতিকে কেউ থামাতে পারবে না।”

নারী ও ভিন্নধর্মাবলম্বীদের বিষয়ে তিনি বলেন, “অনেকে ভয়ে আছেন— মা-বোন বা ভিন্নধর্মীরা কী হবে? আমরা মেয়েদেরকে মা হিসেবে সম্মান দেব, সভ্যতার অগ্রযাত্রায় তারা নেতৃত্ব দেবেন। নারীদের মর্যাদা ও সম্মান নিশ্চিত করা হবে। ভিন্নধর্মাবলম্বীরাও সম্মান পাবেন। আমরা দেশে সত্যিকারের কল্যাণ ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চাই, অহিংস ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই।”

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “সেদিন বাংলাদেশে হায়েনার তাণ্ডব শুরু হয়েছিল। কিন্তু ২৪ জুলাইয়ের বিপ্লবের মধ্য দিয়ে আল্লাহ এই জাতিকে গজব ও লানত থেকে রক্ষা করেছেন। প্রবাসীরাও রাস্তায় নেমে এবং রেমিট্যান্স বন্ধ করে জালিমের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন।”

প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা ক্ষমতায় যাই বা না যাই, প্রবাসীদের দাবি বাস্তবায়নের চেষ্টা করব। আর যদি দেশ পরিচালনার সুযোগ পাই, তাহলে এসব দাবি পূরণ করে তা বাস্তবে রূপ দেব।”

এ সময় বাফেলো প্রবাসীদের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত কয়েকটি দাবির প্রতি তিনি সমর্থন জানান— এর মধ্যে ছিল স্থায়ী কনস্যুলেট স্থাপন, এনআইডি রেজিস্ট্রেশনের সময়সীমা বাড়ানো, বৈধ নাগরিকত্বের জন্য পুলিশ ভেরিফিকেশন বন্ধ করা এবং বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানি বন্ধ করা।

বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামী যুক্তরাষ্ট্রের মুখপাত্র অধ্যাপক ড. নাকীবুর রহমান এবং ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী ডা. খালিদুজ্জামান। অন্যদের মধ্যে অধ্যাপক ড. ইকবাল হোসাইন ও ব্যবসায়ী তালহা বকস বক্তব্য দেন।