
জুলাই মাসের অভ্যুত্থানে বিতর্কিত ভূমিকার কারণে পুলিশ বাহিনী জনরোষের মুখে পড়ে। থানায় থানায় হামলা, ভাঙচুর, অস্ত্র লুট এবং বিতর্কিত সদস্যদের পলায়নের ফলে দেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এই পরিস্থিতি অপরাধীদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করেছে, তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
দেশজুড়ে খুন-ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েছে। পুলিশ সদর দফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশে প্রতিদিন গড়ে ১১টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা প্রায় ২ হাজার।
রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ও বৃদ্ধি পেয়েছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে ৩১০টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে ৭৯ জন নিহত হয়েছেন। সমতলের পাশাপাশি পাহাড়ি অঞ্চলেও অশান্তি তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি খাগড়াছড়িতে গণধর্ষণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, এতে ৩ জনের মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের মতে, এতে ভারত ও কিছু ফ্যাসিস্ট শক্তির প্রভাবও রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, জাতীয় নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার বিদেশি ও দেশি ষড়যন্ত্রের প্রভাব দেশের আইনশৃঙ্খলাকেও নাজুক করে তুলেছে। সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. সিদ্দিকুর রহমান খান বলেছেন, দেশে আইনশৃঙ্খলার অবনতি সাধারণত ঘটে থাকে। তবে এবারের পরিস্থিতি বিশেষ, কারণ পূর্ববর্তী সরকারের পতনের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের মনোবল হারিয়েছে এবং ট্রমার মধ্যে রয়েছে। নির্বাচনের আগে এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।
অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, লুট হওয়া অস্ত্র জাতীয় নির্বাচনের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। সুষ্ঠু ভোটের জন্য বাহিনী ও নাগরিক সমাজের সমন্বয় প্রয়োজন। সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, নির্বাচনকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে যারা দায়িত্ব নেবে, তারা যদি কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক আইন প্রয়োগ না করেন, তাহলে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু করা কঠিন হবে।
পুলিশ জানাচ্ছে, তারা নির্বাচনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, জনগণকে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে ডিএমপি অফিসার ও ফোর্সদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচনের আগে প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে, যাতে আইনশৃঙ্খলার অবনতিরোধ করা যায়।
পুলিশ আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য ষড়যন্ত্র ও অবৈধ কার্যক্রম নিয়েও সতর্ক। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আশা রাখছে, জনগণই এই ধরনের প্রভাব প্রতিরোধ করবে।
মন্তব্য (0)
প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।