
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের চাপের মুখে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর থেকে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। তবে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দেশ-বিদেশে নেতাকর্মীদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে উসকানি দেয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
২০২৪ সালের শেষভাগে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ নামের একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত একটি জুম বৈঠককে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা গড়ে ওঠে। ১৯ ডিসেম্বর ওই ভার্চুয়াল সভায় দেশের ও বিদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়।
সিআইডির ফরেনসিক ও গোয়েন্দা বিশ্লেষণে দেখা যায়, সভায় অংশগ্রহণকারীরা অন্তর্বর্তীকালীন বৈধ সরকার উৎখাতের আহ্বান জানানো, গৃহযুদ্ধ উসকে দেওয়ার পরিকল্পনা ও পলাতক শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনার ঘোষণা দেন।
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরিত তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ৪ মার্চ সিআইডিকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার তদন্ত ও অভিযোগ দায়েরের অনুমতি দেওয়া হয়। পরে ২৭ মার্চ রমনা থানায় মামলা (সিআর নং-২২২/২০২৫) দায়ের হয়, যার ধারাগুলো—বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ১২১, ১২১(ক), ১২৪(ক)।
পাঁচ মাসের তদন্ত শেষে সিআইডি অভিযোগপত্র দাখিল করে হাসিনা ও ২৮৬ জনের বিচার শুরু হয়। আদালত আসামিদের অনুপস্থিতিতেই বিচার পরিচালনার নির্দেশ দেন।
অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জানিয়েছে, ফরেনসিক পরীক্ষায় পলাতক শেখ হাসিনা, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ড. রাব্বি আলমসহ কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক পর্যায়ের অনেক নেতার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। দেশের বিভিন্ন কারাগারে থাকা ৯১ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে, বাকিদের মধ্যে ১৯৫ জন পলাতক।
গতকাল আদালতে আসামিদের অধিকাংশ অনুপস্থিত থাকায় জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশের মাধ্যমে তাদের হাজির হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাজির না হলে ফৌজদারি কার্যবিধি ৫১২ ধারার আওতায় অনুপস্থিতিতেই বিচার হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হওয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও বিচারিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়। এটি অন্তর্বর্তী সরকারের ‘বিচার ও দায়বদ্ধতা’ এজেন্ডার বাস্তব প্রতিফলন ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের জবাবদিহির দৃঢ় সংকেত বহন করে।
মন্তব্য (0)
প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।