ঢাকা–কক্সবাজার রুটে দ্রুত যাত্রার পথে নতুন পদক্ষেপ

image 226

ঢাকা–কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচলের সময় অন্তত দেড় ঘণ্টা কমাতে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী হয়ে ঝাউতলা পর্যন্ত একটি নতুন বাইপাস রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার ডুয়েল লাইন প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই বাইপাস বাস্তবায়িত হলে ঢাকা থেকে আসা ট্রেনগুলোকে আর চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে ইঞ্জিন ঘুরিয়ে সময় নষ্ট করতে হবে না। ফলে ট্রেনগুলো সরাসরি কক্সবাজারে পৌঁছাতে পারবে এবং যাত্রীদের সময় সাশ্রয় হবে কমপক্ষে ৪৫ মিনিট থেকে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত।

গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে ঢাকা–চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ও ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ নামে দুটি যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করছে। সড়কপথের যানজট এড়িয়ে নির্বিঘ্ন যাত্রার সুযোগ থাকায় ট্রেন দুটি যাত্রীদের কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে চট্টগ্রামে এসে ইঞ্জিন রিভার্স করার কারণে বর্তমানে অন্তত ৪৫ মিনিট অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে।

ঢাকা–কক্সবাজার রুটের লোকোমাস্টার এফ এম আবদুল আওয়াল জানান, পাহাড়তলী ও ঝাউতলা হয়ে বাইপাস লাইন চালু হলে ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজার যাওয়া সম্ভব হবে। এতে পুরো রুটে এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় সাশ্রয় হবে। বর্তমানে ১৬৮ কিলোমিটার দীর্ঘ চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে ট্রেন যাত্রায় সময় লাগে প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টা। পাহাড়তলী থেকে চট্টগ্রাম স্টেশনে আসতে ১০ মিনিট এবং ইঞ্জিন ঘোরানো ও কার্টেলিংয়ে আরও ২০ মিনিট সময় নষ্ট হয়। প্রতিদিন এই রুটে দুটি সরাসরি ও দুটি লোকাল ট্রেনে প্রায় ৮ হাজার যাত্রী যাতায়াত করে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, ঢাকা–চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে চলাচলকারী ট্রেনগুলো প্রথমে পাহাড়তলীতে এসে কদমতলী হয়ে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে প্রবেশ করে। এরপর ইঞ্জিন ঘুরিয়ে ঝাউতলা হয়ে কালুরঘাট ব্রিজ অতিক্রম করতে হয়, যা প্রতিবারই অন্তত ৪৫ মিনিট সময় নেয়। বাইপাস চালু হলে এই সময় পুরোপুরি সাশ্রয় হবে।

চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার আবু বকর সিদ্দিক বলেন, বাইপাস লাইন চালু হলে চট্টগ্রামে এসে ট্রেনের ইঞ্জিন ঘোরানোর প্রয়োজন থাকবে না। সরাসরি বাইপাস ব্যবহার করে ট্রেন কক্সবাজারে পৌঁছাবে। এতে চট্টগ্রাম অংশেই গড়ে ৩০ মিনিট সময় কমবে।

এই প্রেক্ষাপটে রেলপথ মন্ত্রণালয় পাহাড়তলী থেকে ঝাউতলা পর্যন্ত নতুন বাইপাস লাইন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে কক্সবাজারগামী যাত্রীদের সুবিধার্থে পাহাড়তলী, ষোলশহর ও ঝাউতলায় নতুন স্টেশন ভবন নির্মাণ, সিবিআই সিগন্যাল ও আধুনিক ইন্টারলকিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। বাইপাস চালু হলে এসব স্টেশন থেকেও যাত্রীরা ট্রেনে উঠানামা করতে পারবেন।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. তানভীরুল ইসলাম জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজার যাত্রা সহজ হবে। চট্টগ্রাম স্টেশনে প্রবেশের প্রয়োজন থাকবে না, ফলে সময় বাঁচবে। পাশাপাশি কিছু স্টেশন ও সিগন্যালিং ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করা হবে। এছাড়া তিনটি স্থানে রেল ও সড়ক ক্রসিংয়ে আন্ডারপাস ও ওভারপাস নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

তবে বর্তমানে চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি ছেড়ে যাওয়া ‘প্রবাল এক্সপ্রেস’ ও ‘শৈবাল এক্সপ্রেস’ ট্রেনগুলো এই ইঞ্জিন ঘোরানোর জটিলতা ছাড়াই চলাচল করছে।