
ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কঠোর বার্তা দিয়েছেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেনবাউম। মঙ্গলবার (০৬ জানুয়ারি) নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি লাতিন আমেরিকায় যেকোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে মেক্সিকোর দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রেসিডেন্ট শেনবাউম বলেন, মেক্সিকো সবসময়ই অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে এসেছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই নীতিগত অবস্থান মেক্সিকোর সংবিধান ও জাতিসংঘ সনদের ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে। শেনবাউম আরও বলেন, লাতিন আমেরিকার ইতিহাস প্রমাণ করে যে বিদেশি হস্তক্ষেপ কখনোই কোনো দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা বা দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারেনি।
এর আগে শনিবার (৩ জানুয়ারি) ট্রাম্পের নির্দেশে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে বিমান হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় অন্তত ৮০ জন নিহত হন। হামলার পর ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়।
এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান মেক্সিকোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুয়ান রামন দে লা ফুয়েন্তে। তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপের পাশাপাশি জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার মতে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় বহুপাক্ষিক সংস্থা হওয়া সত্ত্বেও শক্তিশালী দেশগুলোর আধিপত্য ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন রোধে জাতিসংঘ বর্তমানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে।
এদিকে ভেনেজুয়েলায় সামরিক হস্তক্ষেপের পর ট্রাম্প মেক্সিকো ও কলম্বিয়ার মতো দেশগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করার ইঙ্গিত দেন। তিনি দাবি করেন, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট মাদক কার্টেলগুলোর ভয়ে আতঙ্কিত এবং সে কারণেই দেশটিতে মার্কিন সেনা মোতায়েন প্রয়োজন।
তবে এসব বক্তব্য ও হুমকি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেনবাউম। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এমন কোনো আক্রমণের আশঙ্কা তিনি দেখছেন না এবং এ ধরনের মন্তব্যকে অতটা গুরুত্ব দেওয়ারও প্রয়োজন নেই।
শেনবাউম আরও জানান, ট্রাম্প আগেও মেক্সিকোতে মার্কিন সেনা পাঠানোর হুমকি দিয়েছিলেন। কিন্তু মেক্সিকো সরকার দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে বরাবরই এমন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এসেছে।