
রাজধানীর উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের জীবন বাঁচাতে গিয়ে জীবন দিলেন এক সাহসী শিক্ষিকা মাহরিন চৌধুরী। ২০ জন শিক্ষার্থীকে নিরাপদে সরিয়ে নিজের দেহ দগ্ধ করে তিনি ইতিহাসে রেখে গেলেন বীরত্বপূর্ণ এক দৃষ্টান্ত। ঘটনার কয়েকদিন পর জানা গেছে, তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বোন।
আরো পড়ুন : https://hnewsbd.com/uttara-milestone-biman-durghotona/: ২০ শিক্ষার্থীকে বাঁচিয়ে প্রাণ দিলেন তারেক রহমানের বোন মাহরিন চৌধুরীসামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পুরনো ভিডিওতে মাহরিন চৌধুরী নিজেই জানান, “আমি তারেক রহমানের বোন। আমার চাচা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।”
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মাহরিন চৌধুরী ছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খালাতো ভাই মহিদুর রহমান চৌধুরীর (এম. আর. চৌধুরী) কন্যা। তাদের বাড়ি নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার চৌধুরীপাড়ায়।
আরো পড়ুন : https://hnewsbd.com/1-bochor-age-biye-koren-pilot-toukir/: ২০ শিক্ষার্থীকে বাঁচিয়ে প্রাণ দিলেন তারেক রহমানের বোন মাহরিন চৌধুরীশিক্ষিকার স্বামী মনসুর হেলাল নিশ্চিত করেছেন, মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) ভোরে তারা ঢাকা থেকে মরদেহ নিয়ে রওনা দেন। মাহরিনকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
মাহরিন চৌধুরীর মৃত্যু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের মতে, তিনি কখনো তার রাজনৈতিক পরিচয়কে সামনে আনতেন না। বরং নীরবে-নিভৃতে মানবিক দায়িত্ব পালন করতেন। খালেদা জিয়া অসুস্থ থাকাকালে মাহরিন নিজে খাবার পৌঁছে দিতেন হাসপাতালে ও কারাগারে—যেখানে দলের অনেক সিনিয়র নেতারাও যেতে সাহস পেতেন না।
বাইরের মানুষ তাকে চিনতেন শুধু একজন শিক্ষক হিসেবে—মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক। অথচ আড়ালে তিনি ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদরের ভাতিজি। মিডিয়ার ফোকাস বা প্রচারে আসা কখনোই তার স্বভাব ছিল না।
সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে মাইলস্টোন ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তখন মাহরিন চৌধুরী সাহসিকতার সঙ্গে একে একে ২০ জন শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করেন। তবে নিজের শরীরের একটি অংশে আগুন লেগে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় রাত সাড়ে সাতটায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মাহরিন চৌধুরীর মৃত্যুতে দেশ হারাল এক নিঃস্বার্থ শিক্ষক, একজন সাহসী নারী, এবং এক মানবিক আত্মা—যিনি জীবন দিয়ে প্রমাণ করে গেলেন, নীরবতা কখনো কখনো সবচেয়ে গর্বিত পরিচয় বহন করে।