
ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামালের পদ স্থগিত ও বহিষ্কৃত নেতাদের নিয়ে সভা-সমাবেশ আয়োজনকে কেন্দ্র করে দলের ভেতর ক্ষোভ ও বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানা যায়, সম্প্রতি তিনি রাজাপুর উপজেলা বিএনপির স্থগিত সাধারণ সম্পাদক নাসিম উদ্দিন আকন এবং কাঠালিয়া উপজেলা বিএনপির স্থগিত সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন নিজাম মীরসহ অন্যান্য পদ স্থগিত নেতাদের নিয়ে সভা-সমাবেশ করেছেন। এই ঘটনার ফলে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
কাঠালিয়া উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, “রাজাপুর ও কাঠালিয়ার বিএনপি এখন দুভাগে বিভক্ত। কেন্দ্র থেকে বহিষ্কৃত বা স্থগিত নেতাদের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ থাকলেও এখানে তা মানা হচ্ছে না। মনে হচ্ছে রাজাপুর-কাঠালিয়ায় ভিন্ন একটি বিএনপি চলছে।”
জাকির হোসেনের দাবি, বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতাদের অবহিত করা হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, নাসিম উদ্দিন আকন চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ পান। সন্তোষজনক জবাব না দেওয়ায় ২৫ জানুয়ারি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে তাঁর পদ স্থগিত করা হয়। এরপর ২ ফেব্রুয়ারি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে দলীয় গঠনতন্ত্রের ৫(গ) ধারা অনুযায়ী তাঁর প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
কাঠালিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন নিজাম মীরকে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে সমর্থন ও নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার অভিযোগে ৫ এপ্রিল শোকজ করা হয়। সন্তোষজনক জবাব না দেওয়ায় পরদিন তাঁর পদ স্থগিত করা হয় এবং তাঁকে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
নাসিম উদ্দিন আকন বলেন, “আমাকে বহিষ্কার করা হয়নি, শুধু পদ স্থগিত করা হয়েছে। জেলা বিএনপির রোষানলের কারণে এমন সিদ্ধান্ত। রাজাপুরের মানুষ ও নেতা-কর্মীরা আমাকে ভালোবাসেন। তাই রাজনৈতিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে আমাকে দাওয়াত দেন। তাই স্বাভাবিকভাবেই অংশগ্রহণ করি। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণে কোনো বাধা নেই।”
পদ স্থগিত নেতা আখতার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, “বহিষ্কৃত ব্যক্তিদের সঙ্গে কাজ করা যায় না; তবে যাঁদের পদ স্থগিত, তাঁরা মিছিল-সমাবেশে অংশ নিতে পারেন। পদ না থাকলেও তাঁরা দলের অংশ, তাই সভায় অংশগ্রহণে সমস্যা নেই।”
রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, “মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নেওয়া এক ব্যাপার, কিন্তু পদাধিকার দিয়ে কমিটি বা সংগঠন করা আলাদা বিষয়। সাংগঠনিকভাবে যাঁর পদ স্থগিত, তিনি কমিটিতে থাকতে পারবেন না। তবে মতবিনিময় সভা বা জনসভায় তার উপস্থিতি সমস্যা নয়।”
তিনি নাসিম উদ্দিন আকনের বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন নিয়ে বলেন, “ওটা আমাদের অস্থায়ী কার্যালয়। শাহজাহান ওমর দল থেকে যাওয়ার পর সেটি রাজাপুর বিএনপির অস্থায়ী অফিস হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। সেখানে তারেক রহমান ও জিয়াউর রহমানের ছবি আছে। নতুন অফিস এখনও নেয়া হয়নি।”
রফিকুল ইসলাম আরও যোগ করেন, “নাসিম উদ্দিন আকন একটি স্কুল ও মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি। আমি সেখানে গেলে কি তিনি থাকতে পারবেন না? দল থেকে কেউ বহিষ্কৃত হলেও প্রতিষ্ঠানের সভাপতি বা শিক্ষক হিসেবে থাকলে তার উপস্থিতি কোন সমস্যা নয়।”
জেলা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন বলেন, “যাঁরা পদ স্থগিত নেতাদের নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছেন, তা বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। বিষয়টি কেন্দ্রীয়ভাবে জানানো হয়েছে।”
রাজাপুর ও কাঠালিয়া বিএনপির মধ্যে বিরোধ ও দ্বন্দ্বে মাঠের রাজনীতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। কেন্দ্রীয় নেতার অংশগ্রহণে পদ স্থগিত নেতাদের নিয়ে সভা হওয়ার কারণে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—দলীয় সিদ্ধান্ত মানা না হলে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা কোথায়?