
জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন সানায়ে তাকাইচি
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জাপানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হবে গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির বাস্তবায়ন।
জাপানের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) নেতা সানায়ে তাকাইচি। ৬৪ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদ শনিবার রক্ষণশীল দলটির নতুন নেতা হিসেবে নির্বাচিত হন।
বিবিসি জানায়, দ্বিতীয় দফার রানঅফে তাকাইচি ১৮৫ ভোটে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শিনজিরো কোইজুমি পেয়েছেন ১৫৬ ভোট, আর বর্তমান সরকারের মুখপাত্র ইয়োশিমাসা হায়াশি ১৩৪ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৫৫ সাল থেকে এলডিপি জাপানের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল হিসেবে একচ্ছত্র অবস্থান বজায় রেখেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা ২০২১ সালে এলডিপি’র নেতা নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করেন। এর আগে কেবল ২০০৯ থেকে ২০১২ পর্যন্ত ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ক্ষমতায় ছিল।
এনবিসি নিউজে সানায়ে তাকাইচিকে একজন কঠোর রক্ষণশীল হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারকে ‘আদর্শ’ হিসেবে অনুসরণ করেন এবং জাপানের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন।
তবে দেশটির অনেক নারী ভোটার তাকাইচিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে অনিচ্ছুক। এর পেছনে কারণ হিসেবে তার কট্টর রক্ষণশীল মনোভাব, বিয়ের পর নারীদের নিজের পারিবারিক নাম রাখার আইনের বিরোধিতা এবং সমলিঙ্গ বিয়ের বিপক্ষে অবস্থানকে উল্লেখ করা হচ্ছে।
এলডিপি’র নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর তাকাইচি বলেন, “এই মুহূর্তে খুশি হওয়ার বদলে আমি বিশ্বাস করি—এখন থেকেই সত্যিকারের চ্যালেঞ্জ শুরু। আমাদের একসঙ্গে অনেক কাজ ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “দুর্নীতির কেলেঙ্কারিতে কলুষিত এলডিপিকে আরও উদ্যমী ও প্রাণবন্ত দলে পরিণত করা জরুরি। আমাদের এমন দল হতে হবে, যা মানুষের উদ্বেগকে আশায় রূপান্তরিত করতে পারে।”
বেশিরভাগ এলডিপি সদস্য তাকাইচির উত্থানকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের শাসনামলের সম্ভাব্য পুনরাবৃত্তি হিসেবে দেখছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাকে জাপানের স্থagna অর্থনীতি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি মোকাবেলা করতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, জাপানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম অগ্রাধিকার হবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির বাস্তবায়ন। তাকাইচিও ইঙ্গিত দিয়েছেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি এই চুক্তি নিয়ে পুনরায় আলোচনা শুরু করতে পারেন।