ধ্বংসস্তূপে থাকা গাজাবাসীর জন্য সৌদি আরব থেকে বিশাল ত্রাণ সাহায্য

image 42

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় চলমান ভয়াবহ মানবিক সংকট মোকাবিলায় সহায়তা কার্যক্রম আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। গাজাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে সৌদি আরবের জাতীয় ক্যাম্পেইনের আওতায় আকাশ, সমুদ্র ও স্থলপথ—তিন মাধ্যমেই ত্রাণ সহায়তা ব্যাপকভাবে বাড়ানো হচ্ছে।

রাজকীয় আদালতের উপদেষ্টা ও কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টার (কেএসরিলিফ)-এর সুপারভাইজার জেনারেল ড. আবদুল্লাহ আল-রাবিয়াহ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ ফিলিস্তিনি জনগণের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের অঙ্গীকারের প্রতিফলন এবং ফিলিস্তিন যে সবসময় সৌদি নেতৃত্বের হৃদয়ে স্থান করে আছে, তারই প্রমাণ।

কেএসরিলিফের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত গাজায় আকাশ ও সমুদ্রপথে বড় পরিসরে ত্রাণ পাঠানো হয়েছে। এ কার্যক্রমের আওতায় ৭৭টি বিমানে এবং ৮টি জাহাজে করে ৭ হাজার ৬৯৯ টনেরও বেশি খাদ্যসামগ্রী, চিকিৎসা উপকরণ ও আশ্রয় সহায়তা পাঠানো হয়েছে।

এ ছাড়া ৯১২টি সৌদি ত্রাণবাহী ট্রাক ইতোমধ্যে গাজায় প্রবেশ করেছে এবং ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিকে ২০টি অ্যাম্বুলেন্স প্রদান করা হয়েছে। সীমান্তে প্রতিবন্ধকতা এড়াতে জর্ডানের সঙ্গে যৌথভাবে আকাশপথে গাজায় ত্রাণ ফেলার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গাজার ভেতরে বিভিন্ন মানবিক প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে প্রায় ৯০ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছে সৌদি আরব।

এমন এক সময়ে এই সহায়তা বাড়ানো হলো, যখন গাজায় শীতের তীব্রতা বাড়ছে এবং ইসরাইলি আগ্রাসনে প্রায় ৪ লাখের বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা—অর্থাৎ ১০ লাখেরও বেশি মানুষ চরম আশ্রয় সংকটে ভুগছেন। খোলা আকাশের নিচে তাঁবুতে বা যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে এমন ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বসবাস করে তারা এক মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের ধারাবাহিক মানবিক সহায়তা গাজাবাসীর টিকে থাকার সংগ্রামে বড় সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করছে।