ইসলামী আন্দোলন ঘোষণা করল ৩০ দফা নির্বাচনী ইশতেহার

image 72

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ৩০ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে, যার শিরোনাম “জনপ্রত্যাশার বাংলাদেশ”। এই ইশতেহারে ৩০টি মৌলিক দফা এবং ১২টি বিশেষ কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর পুরানা পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে দলটির আমির চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহার ঘোষণা করেন।

৩০টি মৌলিক দফা:
১. দেশের স্থায়ী শান্তি ও মানবতার সার্বিক কল্যাণে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন।
২. দুর্নীতি, দুঃশাসন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মাদকমুক্ত কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।
৩. সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা।
৪. রাষ্ট্র পরিচালনায় সর্বত্র শরিয়াহর প্রাধান্য।
৫. কৃষি ও শিল্পবিপ্লব ঘটিয়ে বেকারত্ব ও দারিদ্র্যমুক্ত অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ দেশ গঠন।
৬. নৈতিক ও কর্মমুখী, বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা।
৭. সর্বজনীন কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ।
৮. পর্যায়ক্রমিক রাষ্ট্রসংস্কার।
৯. মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশার প্রতি দায়বদ্ধতা।
১০. আর্থিক, সামরিক ও কূটনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি।
১১. নারী, শ্রমিক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকারসহ সব জনগোষ্ঠীর মৌলিক ও মানবাধিকার সুরক্ষা।
১২. রাষ্ট্র, সমাজ ও অর্থনীতিতে বৈষম্য বিলোপ।
১৩. সবার জন্য সাশ্রয়ী ও উন্নত স্বাস্থ্যব্যবস্থা।
১৪. পরিবেশ দূষণ রোধ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু অভিঘাত মোকাবেলায় গুরুত্ব।
১৫. ধর্মীয় স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সহাবস্থান নিশ্চিতকরণ।
১৬. শুধু দুর্নীতি ও সন্ত্রাস দমন নয়, নির্মূলকরণ কর্মসূচি গ্রহণ।
১৭. শুধু আইনের শাসন নয়, ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা।
১৮. জনমতের যথার্থ প্রতিফলন, সুষ্ঠু নির্বাচন ও কার্যকর সংসদ প্রতিষ্ঠায় প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (PR) পদ্ধতি বাস্তবায়ন।
১৯. মানুষের সার্বিক কল্যাণে ধর্ম ও রাজনীতির সমন্বয়।
২০. দুর্নীতি, সন্ত্রাস, খুন ও অনৈতিক পেশার সঙ্গে জড়িতদের রাজনীতিতে নিষিদ্ধকরণ।
২১. খুন, গুম, মিথ্যা মামলা, জুলুম, নির্যাতন ও দুঃশাসনের অবসান।
২২. জনগণের বাক্‌স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ।
২৩. নারীদের শুধু সমঅধিকার নয়, অগ্রাধিকার প্রতিষ্ঠা।
২৪. শিল্পোদ্যোক্তাদের ঋণ প্রদান এবং গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, স্যুয়ারেজ ও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু।
২৫. সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ।
২৬. কওমি মাদরাসার ডিগ্রিধারীসহ দক্ষ ও যোগ্য উলামায়ে কিরামকে সরকারি সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনা।
২৭. সড়ক নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ।
২৮. ১৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত ও কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করা।
২৯. শ্রমের মর্যাদা ও শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা।
৩০. দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে সকল সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া।

১২টি বিশেষ কর্মসূচি:
১. হতদরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য মাসে ৫,০০০ টাকা নগদ সহায়তা।
২. প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিদিন একটি পুষ্টিকর খাবার।
৩. ১৮–২৪ বছর বয়সী যুবকদের জন্য সুদমুক্ত, জামানতবিহীন এককালীন ঋণ।
৪. সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি, স্বাস্থ্যকার্ড, কৃষি উপকরণ সরবরাহ ও কৃষিকার্ড প্রবর্তন।
৫. ন্যাশনাল জব পোর্টাল—দেশ ও বিদেশে চাকরি, পরামর্শ ও প্রশিক্ষণের সুযোগ।
৬. কর্মজীবী মায়েদের জন্য যথেষ্ট সংখ্যা দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন।
৭. ঢাকাসহ সব শহরে সরকার নিয়ন্ত্রিত ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক বাস ব্যবস্থা।
৮. সেবাকেন্দ্রিক কর ব্যবস্থা চালু।
৯. সবার জন্য নির্বিঘ্ন নাগরিক সেবা নিশ্চিতকরণ।
১০. নারী পোশাকশ্রমিকদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা।
১১. দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে অবৈধ সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া।
১২. কওমি সনদের স্বীকৃতি বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্রীয় পদে উলামায়ে কেরামের নিয়োগ।

ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।