
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর বাংলাদেশ সরকারের বিবৃতিতে অসন্তোষ ও দুঃখ প্রকাশ করেছে ইরান। তেহরানের প্রত্যাশা ছিল, মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ আগ্রাসনের সরাসরি নিন্দা জানাবে।
বুধবার ঢাকার ইরান দূতাবাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত জলিল রহীমি জাহানাবাদী এসব কথা জানান। তিনি বলেন, “ইরান এই ইস্যুতে বাংলাদেশের বিবৃতিতে কষ্ট পেয়েছে। এটি আরও স্পষ্ট হওয়া উচিত ছিল। বাংলাদেশ একটি মুসলিম রাষ্ট্র এবং আমাদের ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ। আমরা আশা করেছিলাম, বাংলাদেশ আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে নিন্দা জানাবে, কিন্তু তা হয়নি।”
রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, পাকিস্তান, তুরস্ক এবং স্পেনসহ কয়েকটি দেশ হামলার সরাসরি নিন্দা জানিয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কেবল ‘উদ্বেগ’ প্রকাশ করা হয়েছে।
তবে ইরান ঢাকাকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি দেবে না। রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরবর্তী সাক্ষাতে তিনি বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে তুলে ধরবেন। তিনি আরও জানান, সম্প্রতি ঈদের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সৌজন্যমূলক আলাপ হয়েছে।
আঞ্চলিক অস্থিরতার বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, ইরান কোনো প্রতিবেশী মুসলিম দেশে হামলা চালাচ্ছে না; বরং ওই দেশগুলোর ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করা হচ্ছে। যারা নিজেদের দেশে মার্কিন ঘাঁটি স্থাপনের অনুমতি দিয়েছে, তারা সাধারণ মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এই অঞ্চলে সংকট থাকা সত্ত্বেও কেন আরব দেশগুলো আমেরিকাকে ঘাঁটি স্থাপনের সুযোগ দিচ্ছে।
ক্ষোভ থাকলেও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বার্তা দিয়েছেন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, বাংলাদেশ যদি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি স্থাপনের কোনো উদ্যোগ নেয়, তেহরান তা স্বাগত জানাবে। এছাড়া ইরানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপদে ফেরত আনার ক্ষেত্রে সকল ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, জাতিসংঘ ও ওআইসির সদস্য হিসেবে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অবস্থান আরও স্পষ্ট ও স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন।