
গণ-অভ্যুত্থানের পর পুলিশের ভঙ্গুর পরিস্থিতি মোকাবেলায় মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব নেন বাহারুল আলম। তিনি নির্বাচনের প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ঝুঁকি, পুলিশের সংস্কার, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষতা নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক মাহমুদুল হাসান। বাহারুল আলম বলেছেন, “আমার বিশ্বাস, দেশবাসীর প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এজন্যই আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমাদের সব কর্মকাণ্ড এখন এ নির্বাচনের দিকে কেন্দ্রীভূত। কারণ, এটি এমন একটি দায়িত্ব, যার ওপর দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। আমরা এই নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। দুই লাখ সদস্যের পুলিশ বাহিনীর প্রায় ৭৫ শতাংশ, অর্থাৎ দেড় লাখ সদস্যকে মোটিভেশন এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নির্বাচনের কাজে সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা হচ্ছে। তাঁরা সরাসরি নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন।”
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের দায়িত্ব কেবল পুলিশই পালন করবে না। পুলিশের পাশাপাশি আনসার ও ভিডিপিরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রতিটি কেন্দ্রে সাধারণত দুইজন পুলিশ থাকবেন, তাঁদের সঙ্গে আট থেকে দশজন আনসারের সদস্য দায়িত্বে থাকবেন। এছাড়া সেনাবাহিনী, সীমান্ত এলাকায় বিজিবি, উপকূলীয় এলাকায় কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীও দায়িত্বে থাকবে। তবে সবচেয়ে বড় ভরসা হলো মানুষ। যদি মানুষ নির্বাচনমুখী হয় এবং রাজনৈতিক দলগুলোও নির্বাচনে অংশ নিতে উৎসাহী থাকে, তবে নিরাপত্তার ঝুঁকি স্বাভাবিকভাবেই অনেক কমে যায়।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “তবে নির্বাচনকালে কখনও কখনও সংঘর্ষের ঘটনা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত ঘটতে পারে। অতীতে প্রতিটি নির্বাচনে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। তাই আমরা গ্রাউন্ড ওয়ার্ক শুরু করেছি, সম্ভাব্য ঝুঁকি ও অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের পরিস্থিতি বিবেচনা করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হচ্ছে। সব অংশগ্রহণকারীর মতামত শোনা হচ্ছে, যাতে একটি সুন্দর ও নিরাপদ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।”
বাহারুল আলম স্মরণ করান, “১৯৯১, ২০০১ ও ২০০৮ সালের গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে পুলিশ একইভাবে জনবল নিয়েছিল। তাই জনবল সংখ্যা এখানে বড় বিষয় নয়। তবে কোনো ফ্যাসিস্ট রেজিম নির্বাচন নষ্ট করার চেষ্টা করতে পারে। আমাদের বড় শক্তি হলো, বাকি সব দল উৎসাহের সঙ্গে নির্বাচন করতে চায়।”