
দীর্ঘ ১৪ বছর পর আবারও ঢাকা–করাচি রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালু করতে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। আগামী ২৯ জানুয়ারি থেকে ঢাকা–করাচি–ঢাকা রুটে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হবে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ২৯ জানুয়ারি থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত এই রুটে পরীক্ষামূলকভাবে সপ্তাহে দুইদিন সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। এই সময়ের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পাকিস্তান সিভিল এভিয়েশন অথরিটি ইতিমধ্যে ঢাকা–করাচি রুটে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমোদন দিয়েছে এবং বিমান বাংলাদেশকে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করার অনুমতিও দিয়েছে।
সূত্র জানায়, গত কয়েক মাস ধরে পাকিস্তানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছিল। সবকিছু চূড়ান্ত হলে ২০১২ সালের পর ২৯ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো সরাসরি ফ্লাইট শুরু হবে। বর্তমানে বাংলাদেশ–পাকিস্তান যাত্রীদের বেশির ভাগই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ট্রানজিট নিয়ে ভ্রমণ করতে বাধ্য।
জিউ নিউজের খবরে বলা হয়, ফেডারেল সরকারের অনুমোদনের পর সিভিল এভিয়েশন অথরিটির মহাপরিচালক আনুষ্ঠানিকভাবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে ছাড়পত্র দিয়েছেন। প্রাথমিক অনুমোদন ৩০ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষ জানায়, বিমান বাংলাদেশকে আকাশসীমা ব্যবহারকালে নির্ধারিত রুট অনুসরণ করতে হবে। এছাড়া ঢাকা থেকে ফ্লাইট ছাড়ার আগে করাচি বিমানবন্দরকে সম্পূর্ণ ফ্লাইট বিবরণ প্রদান করতে হবে।
ঢাকা থেকে করাচির দূরত্ব প্রায় ২,৩৭০ কিলোমিটার। বর্তমানে সরাসরি ফ্লাইট না থাকায় যাত্রীদের মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ট্রানজিট করতে হয়, যার কারণে ভ্রমণের সময় ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা লেগে যায়। কিছু ক্ষেত্রে ১৮–২২ ঘণ্টাও লাগে। ট্রানজিট ফ্লাইটের কারণে ভাড়া ২০১৯ সালে ৫০–৫৫ হাজার টাকার পরিবর্তে বর্তমানে ৮৫ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মধ্যে পৌঁছেছে।
এ সময় ফ্লাইট পরিচালনা করে এয়ার অ্যারাবিয়া, গালফ এয়ার, ফ্লাই দুবাই, এমিরেটস, কাতার এয়ারওয়েজ ও থাই এয়ারওয়েজসহ কয়েকটি এয়ারলাইনস।