সায়েন্সল্যাব মোড়ে বিক্ষোভ করেছে ঢাকা কলেজের উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীরা।

image 4

ঢাকা কলেজের উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীরা প্রস্তাবিত ও বাস্তবায়নাধীন ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ স্কুলিং মডেল বাতিলের দাবিতে সায়েন্সল্যাব মোড়ে বিক্ষোভ করেছেন। সোমবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে মিছিল শুরু করে শতাধিক শিক্ষার্থী সায়েন্সল্যাব মোড়ে অবস্থান নিলে নিউমার্কেট-মিরপুর সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন যে, ঢাকা কলেজসহ দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও স্বকীয়তা বিশিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচিতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। শত বছরের সুনাম, বিশেষ শিক্ষা পরিবেশ এবং প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড নতুন বিশ্ববিদ্যালয় কাঠামোর কারণে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তারা আরও উল্লেখ করেছেন, এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শিক্ষার্থীদের মতামত নেওয়া উচিত ছিল।

বিক্ষোভরত শিক্ষার্থী ফরহাদ রানা সজিব বলেন, নতুন কাঠামো চাপিয়ে দিলে প্রশাসনিক জটিলতা, শিক্ষক সংকট এবং অবকাঠামোগত ঘাটতি আরও বেড়ে যেতে পারে। নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠিত হলে কলেজগুলোর নিজস্ব পরিচিতি হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। আরেক শিক্ষার্থী নাসিম হায়দার বলেন, আলোচনা ছাড়া এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি স্কুলিং পদ্ধতির পরিবর্তে অধিভুক্ত কলেজভিত্তিক কাঠামো বজায় রাখার দাবি জানাচ্ছেন তারা।

সরকার ইতোমধ্যে রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজ একীভূত করে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ নামে নতুন একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে এসব কলেজের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তিও বাতিল করা হয়েছিল। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ১২ নভেম্বর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর চাপ কমাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন বিশ্ববিদ্যালয় কাঠামোর আওতায় ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ এবং কবি নজরুল সরকারি কলেজকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

ইউজিসি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি অংশগ্রহণকারীদের মতামত নিয়ে রূপরেখা তৈরি করেছে। সংসদ না থাকায় অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে আইন জারি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এছাড়া ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খানের নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটি প্রশাসনিক ও একাডেমিক কাঠামো নিয়ে মতামত সংগ্রহের জন্য ২৪ সেপ্টেম্বর একটি খসড়া প্রকাশ করে। ওই খসড়ায় সাত কলেজকে চারটি স্কুলে ভাগ করে ইন্টারডিসিপ্লিনারি কাঠামোয় উচ্চমাধ্যমিক থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত পাঠদান চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।