
আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি (জেপি) এবং ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিসহ (জাপা) মোট ১৬টি দল ‘জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক জোট’ গঠনে সম্মত হয়েছে। মঞ্জু ও আনিস দুজনই অতীতের শেখ হাসিনার সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। জোটে যুক্ত হওয়া অধিকাংশ দল আগে থেকেই আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।
রোববার রাজধানীর গুলশানের হাওলাদার টাওয়ারে এসব দলের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। জোটের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জাপা (আনিস)–এর মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। জোটটি আগামী ৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।
সভায় ব্যারিস্টার আনিস বলেন, এক হয়ে নির্বাচনে গেলে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব। তিনি জানান, জোটের মূলমন্ত্র হবে—বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, উদার গণতন্ত্র ও সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান।
মঞ্জু ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার প্রথম মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। পরে তিনি এরশাদকে ছেড়ে জেপি গঠন করে আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গেই রাজনীতি করেন। ২০১৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি ও পরে মন্ত্রী হন। ২০১৮ সালেও আওয়ামী লীগ জোট থেকে এমপি নির্বাচিত হলেও ২০২৪ সালের নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে হেরে যান।
বিএনপি থেকে রাজনীতি শুরু করা আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ২০০৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত চারবার আওয়ামী লীগ–জোটের প্রার্থী হিসেবে এমপি নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে মন্ত্রী এবং ২০২৪ সালে বিরোধীদলীয় উপনেতা হন। তবে শেখ হাসিনার পতনের পর জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের সঙ্গে দ্বন্দ্বে তিনি একই নামে নতুন দল গঠন করেন।
ব্যারিস্টার আনিসের সভাপতিত্বে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। তিনি অভিযোগ করে বলেন, জনগণের ঐক্যের রাজনীতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, অন্তর্বর্তী সরকার বিভাজনের রাজনীতি করছে।
সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন—জনতা পার্টির গোলাম সারোয়ার মিলন, জাপা (মতিন)–এর এ এন এম সিরাজুল ইসলাম, মুসলিম লীগের মহসিন রশিদ, এনপিপির শেখ সালাউদ্দিন সালু, নেজামে ইসলামের মাওলানা আশরাফুল হক, ইসলামিক জোটের আবু নাসের ওহেদ ফারুক, জাতীয় সংস্কার জোটের মেজর (অব.) আমীন আহমেদ আফসারী, মানবাধিকার পার্টির আখতার হোসেন ও জাগপার একাংশের মহিউদ্দিন বাবলু প্রমুখ।
রুহুল আমিন হাওলাদার জানান, বৃহত্তর রাজনৈতিক জোট গঠনে ১৬টি দল ইতোমধ্যে ঐকমত্যে পৌঁছেছে।