যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর ভিসা বন্ড নীতিতে এবার স্থান পেল বাংলাদেশ

image 64

যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন আর্থিক বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। মার্কিন সরকারের হালনাগাদ ‘ভিসা বন্ড’ তালিকায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করার ফলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ভিসা আবেদনকারীদের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত জমা দিতে হতে পারে। এই নিয়ম আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ৬ জানুয়ারি ভিসা বন্ড তালিকায় হালনাগাদ করেছে, যেখানে এখন মোট ৩৮টি দেশ রয়েছে। এই তালিকায় থাকা দেশগুলোর নাগরিকদের নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, বিশেষ করে বি১/বি২ (ব্যবসা ও পর্যটন) ভিসার ক্ষেত্রে বন্ড আরোপ করা হতে পারে।

পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনকারীর সব শর্ত পূরণ করলেও কনস্যুলার অফিসার চাইলে ভিসা বন্ড আরোপ করতে পারবেন। জামানতের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে তিন ধাপে—৫ হাজার, ১০ হাজার বা ১৫ হাজার মার্কিন ডলার। এটি নির্ভর করবে আবেদনকারীর প্রোফাইল, ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং সাক্ষাৎকারের মূল্যায়নের ওপর।

জামানতের অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘Pay.gov’-এর মাধ্যমে জমা দিতে হবে। তবে কনস্যুলার অফিসারের লিখিত নির্দেশনা ছাড়া কোনো অর্থ জমা দেওয়া যাবে না।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, ভিসা বন্ড মূলত একটি পাইলট কর্মসূচি, যার উদ্দেশ্য ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে অননুমোদিত অবস্থান (‘ওভারস্টে’) কমানো। সেই দেশগুলোর নাগরিকদের তালিকায় রাখা হয়েছে, যাদের ক্ষেত্রে অনুমোদিত সময়ের মধ্যে দেশে ফিরে না আসার হার তুলনামূলকভাবে বেশি।

ভিসা বন্ড স্থায়ীভাবে কেটে নেওয়া হবে না। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে জামানত ফেরতযোগ্য। অনুমোদিত সময়ের মধ্যে দেশে ফিরে আসা, ভ্রমণ না করা বা বিমানবন্দরে প্রবেশে বাধা পেলে জামানত ফেরত দেওয়া হবে। তবে কেউ দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান বা ভিসার স্ট্যাটাস পরিবর্তনের (যেমন রাজনৈতিক আশ্রয় বা এসাইলাম) আবেদন করলে জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।

এই বন্ডের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশেও নতুন শর্ত আরোপ করা হয়েছে। ভিসা বন্ডধারীদের জন্য তিনটি নির্দিষ্ট বিমানবন্দর ব্যবহার বাধ্যতামূলক—বোস্টন লোগান (BOS), নিউইয়র্ক জে.এফ.কেনেডি (JFK) এবং ওয়াশিংটন ডুলস (IAD)। অন্যান্য বিমানবন্দর ব্যবহার করলে বন্ডের শর্ত ভঙ্গ গণ্য হবে, যা ফেরতের ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

বাংলাদেশ ছাড়াও তালিকায় রয়েছে আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া, নেপাল, উগান্ডা ও আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশ।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ আরও ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে উঠবে। পর্যটন, ব্যবসা বা স্বল্পমেয়াদি সফরের পরিকল্পনায় অতিরিক্ত আর্থিক প্রস্তুতি প্রয়োজন হবে।

ভিসা বন্ড মূলত একটি আর্থিক নিশ্চয়তা ব্যবস্থা, যা নিশ্চিত করে যে ভ্রমণকারী ভিসার শর্ত মেনে চলবেন। যদিও বিশ্বের অধিকাংশ দেশই ভিসার জন্য আর্থিক সামর্থ্য প্রমাণ চায়, ফেরতযোগ্য জামানত নেওয়ার এই পদ্ধতি আন্তর্জাতিকভাবে খুব বেশি প্রচলিত নয়। অতীতে নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য সীমিত ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ করলেও পরে বাতিল করা হয়।