
মানুষ সাধারণত মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম ও ভালো ঘুমের কথা চিন্তা করে। তবে এগুলোর পাশাপাশি আরও কিছু কার্যকর উপায় রয়েছে যা মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে ও ভবিষ্যতে অবক্ষয় প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে।
১. ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তুলুন
বহুল আলোচিত হার্ভার্ড স্টাডি অব অ্যাডাল্ট ডেভেলপমেন্ট গবেষণায় দেখা গেছে, ইতিবাচক ও গভীর সম্পর্ক দীর্ঘায়ু ও সুস্থ মস্তিষ্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও একাকিত্ব ডিমেনশিয়া, হৃদরোগ, স্ট্রোক ও মানসিক অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ায়। সুতরাং, সুস্থ মস্তিষ্কের জন্য ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখা অপরিহার্য।
২. ওজনের পরিবর্তে কোমরের মাপের দিকে নজর দিন
গবেষণায় দেখা গেছে, পেটের অতিরিক্ত চর্বি মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তির কেন্দ্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং অ্যালঝাইমারের লক্ষণ সৃষ্টি করতে পারে। পেটের গভীরে জমে থাকা ভিসেরাল ফ্যাট প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা মস্তিষ্কের গঠন ও কার্যকারিতার উপর প্রভাব ফেলে। তাই ওজন কমানোর চেয়ে পেটের মাপ নিয়ন্ত্রণ করা বেশি জরুরি।

৩. রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করুন
উচ্চ রক্তে শর্করা মস্তিষ্কের কোষের ক্ষতি করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই প্রতিদিন রক্তে শর্করার ওঠানামা কমানোর চেষ্টা করা উচিত। খাবারের আগে আঁশ ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট গ্রহণ করলে শর্করার বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়।
৪. শুধু কার্ডিও নয়, শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম করুন
শুধু হাঁটাহাঁটি বা দৌড়ানোর পরিবর্তে শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম, যেমন ওজন তোলা, প্ল্যাঙ্ক, পুশ-আপস করা জরুরি। এসব ব্যায়াম মস্তিষ্কে নতুন কোষ জন্মাতে সাহায্য করে ও অ্যালঝাইমারের ক্ষতিকর প্রভাব হ্রাস করতে পারে।

৫. চাপ কমান ও শ্বাস নিয়ন্ত্রণ করুন
দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর। মেডিটেশন, যোগব্যায়াম বা শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মানসিক চাপ কমানো সম্ভব। এছাড়া, গুরুতর মানসিক সমস্যার ক্ষেত্রে পেশাদার পরামর্শ গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
/হ্যাভেন টিভি ডট প্রেস

