
ইফতেখার হোসাইন, প্রতিবেদক :
মঙ্গল গ্রহের লাল রঙের রহস্য অনেক বছর ধরেই বিজ্ঞানীদের আগ্রহের বিষয় ছিল। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, মঙ্গলের ধুলায় থাকা লৌহ খনিজের অক্সিডেশনের ফলে এটি লাল হয়েছে। তবে নতুন এক গবেষণা বলছে, এর মূল কারণ হতে পারে এক ধরনের জলীয় অক্সাইড, যা আগের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, মঙ্গলের পৃষ্ঠে থাকা লোহা কোনো এক সময়ে পানির সংস্পর্শে এসে অক্সিডাইডে পরিণত হয়েছে, যা পরবর্তীতে ধূলিকণায় রূপান্তরিত হয়ে পুরো গ্রহে ছড়িয়ে পড়েছে। এ পর্যন্ত ধারণা করা হচ্ছিল যে, মঙ্গলের লাল রঙ প্রধানত ‘হেমাটাইট’ নামের এক শুষ্ক খনিজের কারণে হয়েছে। তবে নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, আসল কারণ হতে পারে ‘ফেরিহাইড্রাইট’ নামে এক ধরনের জলীয় অক্সাইড, যা ঠাণ্ডা পানির উপস্থিতিতে গঠিত হয়।

মঙ্গলের অতীত ও সম্ভাব্য বাসযোগ্যতা
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ফেরিহাইড্রাইটের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, মঙ্গলে এক সময় পানির পরিমাণ পূর্বের অনুমানের চেয়ে বেশি ছিল। এটি মঙ্গলের আবহাওয়া ও ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে পারে। গবেষণা অনুযায়ী, ৩ বিলিয়ন বছর আগে যখন মঙ্গল ধীরে ধীরে শুষ্ক হয়ে উঠছিল, তখনই এই খনিজটি গঠিত হয়েছিল।
বর্তমানে নাসার পারসিভিয়ারেন্স রোভার মঙ্গলের বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করছে, যা ২০৩০-এর দশকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই নমুনাগুলো বিশ্লেষণ করলে মঙ্গলের জলবায়ু পরিবর্তন ও অতীতে প্রাণের অস্তিত্বের সম্ভাবনা সম্পর্কে আরও সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
/হ্যাভেন টিভি ডট প্রেস
