
ইফতেখার হোসাইন, প্রতিবেদক :
ড্রিফট (Drift) নামের একটি ব্রিটিশ স্টার্টআপ সমুদ্রে পালতোলা নৌযান ব্যবহার করে নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদনের নতুন এক ধারণা উপস্থাপন করেছে। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিশেষ নকশার উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্যাটামারান (দুই শরীরবিশিষ্ট নৌযান) বাতাসের শক্তি কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে এবং তা ব্যবহার করে সমুদ্রের পানি থেকে হাইড্রোজেন তৈরি করবে।

এই নৌযানের নিচে থাকবে একটি টারবাইন, যা চলার সময় পানির প্রবাহ থেকে শক্তি সংগ্রহ করবে। এরপর এই শক্তি ব্যবহার করে ইলেক্ট্রোলাইজারের মাধ্যমে হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপাদন করা হবে, যা পরবর্তীতে বন্দরগুলোতে নিয়ে গিয়ে সংরক্ষণ বা ব্যবহার করা যাবে।
ড্রিফটের সিইও বেন মেডল্যান্ড বলেছেন, “এই জাহাজগুলো স্বাধীনভাবে নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদন করতে সক্ষম, এদের জন্য কোনো গ্রিড সংযোগ বা সমুদ্রের নিচে ক্যাবল বসানোর দরকার নেই।”
ড্রিফ্ট এনার্জির প্রথম বাণিজ্যিক জাহাজগুলির কনসেপ্টচুয়াল চিত্র এক শিল্পীর ছাপ
বর্তমানে ড্রিফটের পরীক্ষামূলক নৌযানগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা কম, তবে ভবিষ্যতে তারা ১৯০ ফুট দীর্ঘ বড় জাহাজ তৈরি করবে, যা বছরে ১,৫০,০০০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত হাইড্রোজেন উৎপাদন করতে পারবে। যদিও এর প্রাথমিক নির্মাণ ব্যয় ২৪ মিলিয়ন ডলার হবে, ভবিষ্যতে এটি কমে “সিঙ্গেল ডিজিট” মিলিয়নে নেমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই জাহাজগুলো মূলত আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলবে, বিশেষ করে উত্তর আটলান্টিক ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে। প্রাথমিকভাবে এগুলো পরিচালনার জন্য ছয়জন নাবিক থাকলেও, ভবিষ্যতে স্বয়ংক্রিয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ড্রিফটের মতে, এই জাহাজগুলো শুধুমাত্র হাইড্রোজেন উৎপাদনের জন্যই নয়, বরং সবুজ অ্যামোনিয়া, সবুজ মিথানল উৎপাদন এবং এমনকি সমুদ্র গবেষণার জন্যও ব্যবহার করা যেতে পারে। এগুলো জলবায়ুর তথ্য সংগ্রহ এবং সামুদ্রিক প্রাণী পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
/হ্যাভেন টিভি ডট প্রেস
