মরুভূমির বালুর নিচে মিলল ৫০০ বছরের পুরোনো ধনভরা জাহাজ

image 42

নামিব মরুভূমির মতো শুষ্ক ও জনহীন এলাকায় কেউ হয়তো ধনভান্ডার খুঁজে পাওয়ার স্বপ্নও দেখেন না। অথচ ঠিক সেখানেই ঘটেছিল ইতিহাসের এক বিস্ময়!

২০০৮ সালে নামিবিয়ার স্পেরগেবিট এলাকায় হীরার খনন করতে গিয়ে কর্মীরা প্রথমে কাঠ ও ধাতুর টুকরা দেখতে পান। পরে প্রত্নতত্ত্ববিদেরা নিশ্চিত হন—এটা কোনো সাধারণ জাহাজ নয়, বরং ১৫৩৩ সালে হারিয়ে যাওয়া পর্তুগিজ বাণিজ্য জাহাজ ‘বম জেসাস’। ভারতে যাওয়ার পথে ঝড়ে পড়ে গিয়ে সেটি আটকে যায় ভয়ংকর স্কেলিটন কোস্টে, যা ঢেউ, কুয়াশা ও বালুঝড়ের জন্য কুখ্যাত। প্রায় ৫০০ বছর ধরে বালুর নিচেই নিখোঁজ ছিল জাহাজটি।

খনন করে পাওয়া যায় দুই হাজারেরও বেশি স্বর্ণমুদ্রা, হাতির দাঁত, তামার পাত, অস্ত্র ও নেভিগেশনের সরঞ্জাম—এতো বছর পরও বেশিরভাগই অক্ষত। মরুভূমির শুকনো জলবায়ু আর বালুর স্তর যেন জাহাজটিকে প্রাকৃতিক সিন্দুকে সংরক্ষণ করে রেখেছিল। ইতিহাসবিদদের ধারণা, ইউরোপের বিখ্যাত ফুগার ব্যাংকার পরিবার এই যাত্রার পৃষ্ঠপোষক ছিল।

গবেষকদের মতে, আফ্রিকায় এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার। কারণ, এত পুরোনো এবং এত অক্ষত জাহাজ এর আগে বিশ্বের কোথাও পাওয়া যায়নি। পাওয়া মুদ্রায় পর্তুগালের রাজা তৃতীয় জোয়াওর সিলমোহরও মিলেছে।

চমক আছে আরও—ইউনেসকোর নিয়ম অনুসারে নামিবিয়া জাহাজটির সম্পূর্ণ মালিকানা পেয়েছে, আর পর্তুগাল কোনও দাবি জানাননি। গবেষকেরা বিষয়টিকে ঐতিহ্য সংরক্ষণের উদাহরণ হিসেবে গণ্য করছেন।

নামিবিয়া এখন ওরাঞ্জেমুন্ডে একটি সামুদ্রিক জাদুঘর গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে, যেখানে এই স্বর্ণমুদ্রা ও দুর্লভ নিদর্শনগুলো সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করা হবে।

‘বম জেসাস’-এর গল্প যেমন এক রোমাঞ্চকর ইতিহাসের দলিল, তেমনি মনে করিয়ে দেয়—পাঁচ শতাব্দী আগেই বিশ্ব ছিল এক বিশাল বাণিজ্যপথে সংযুক্ত। আর সেই মহান অধ্যায় নিঃশব্দে ঘুমিয়ে ছিল মরুভূমির গভীরে।

(তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়ান ডিফেন্স রিভিউ — কিশোর আলো থেকে অভিযোজন)