যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িংবিমান কিনবে বাংলাদেশ

BIMAN 1

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাল্টা শুল্ক নিয়ে দর-কষাকষির অংশ হিসেবে মার্কিন উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি বিমান কিনছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এর মধ্যে কয়েকটি বিমান আগামী এক-দুই বছরের মধ্যেই দেশে এসে পৌঁছাবে।

রোববার (২৭ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, “পাল্টা শুল্ক ইস্যুতে চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে বোয়িং থেকে বিমান কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও বোয়িং একটি বেসরকারি কোম্পানি, তবে এ ধরনের বড় চুক্তি কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটেও প্রভাব ফেলে।”

মাহবুবুর রহমান জানান, পাল্টা শুল্ক বিষয়ক আলোচনায় অংশ নিতে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল সোমবার (২৮ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা দেবে। পরদিন ২৯ ও ৩০ জুলাই ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তরে (USTR) সরাসরি বৈঠক হবে। এতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বাণিজ্য উপদেষ্টা, নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও বাণিজ্যসচিব অংশ নেবেন।

তিনি আরও জানান, ‘শুল্ক চুক্তির খসড়া পাওয়ার পর আমরা কয়েক দফায় আলোচনা করেছি। ২৩ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রকে আমাদের চূড়ান্ত অবস্থান জানানো হয়েছে। এরপর তাদের কাছে সময় চেয়ে পুনরায় আলোচনার সুযোগ চাওয়া হয়। তারই প্রেক্ষিতে এই বৈঠকের আয়োজন।’

বোয়িং বিমান কেনা প্রসঙ্গে বাণিজ্যসচিব বলেন, ‘এর আগে বাংলাদেশ ১৪টি বোয়িংয়ের অর্ডার দিয়েছিল। এখন তা বাড়িয়ে ২৫টিতে উন্নীত করা হয়েছে। কারণ, বাংলাদেশ বিমানের বহর সম্প্রসারণের প্রয়োজন রয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশ যেমন ভারত ও ভিয়েতনাম ১০০টি করে, আর ইন্দোনেশিয়া ৫০টি বোয়িং অর্ডার দিয়েছে।’

তিনি জানান, ‘বোয়িং কোম্পানি তাদের উৎপাদন সক্ষমতা অনুযায়ী সরবরাহ করে। তাই অর্ডার দেওয়া সত্ত্বেও সব বিমান একসঙ্গে পাওয়া যাবে না। তবে আমরা আশা করছি, দ্রুত কিছু বিমান পাওয়া যাবে।’

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানির একটি চুক্তিও চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যসচিব। তিনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৯ মিলিয়ন টন গম আমদানি করা হয়। এবার যুক্তরাষ্ট্র থেকেও এই গম আনা হবে। একই সঙ্গে সয়াবিন ও তুলা আমদানির বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।

মাহবুবুর রহমান আরও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সব দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার। তারা এই ঘাটতি কমাতেই বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করছে।”

সবশেষে বাণিজ্যসচিব আশা প্রকাশ করেন, আগামী ১ আগস্টের মধ্যে শুল্ক আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি ও সিদ্ধান্ত পাওয়া যেতে পারে।