আমতলীতে ১০০ টাকার ঝগড়ায় প্রাণ গেল শ্রমিকের

Screenshot%202026 03 30%20184220 69ca6fb4c1f37

মাত্র ১০০ টাকার বিরোধকে কেন্দ্র করে বরগুনার আমতলীতে নৃশংস হামলায় আহত পোশাক শ্রমিক সজিব আকন (২০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, উপজেলার কলাগাছিয়া গ্রামের আয়নালী আকন প্রতিবেশী সোনা মিয়া প্যাদার কাছ থেকে ৭০০ টাকায় দুই মণ কুড়া (ধানের খোসা) কিনেছিলেন। পরে সোনা মিয়া অতিরিক্ত ১০০ টাকা দাবি করলে গত ৫ মার্চ এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয় এবং এক পর্যায়ে আয়নালী আকন মারধরের শিকার হন।

এর জের ধরে ঈদুল ফিতরের দিন ২১ মার্চ সকাল ১০টার দিকে আয়নালী আকনের ছেলেরা বিষয়টি জানতে চাইলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। প্রায় এক ঘণ্টা পর সোনা মিয়া প্যাদার নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি দল আয়নালী আকনের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আয়নালী আকন, তার ছেলে সজিব আকন, আল আমিন আকন, রোকেয়া বেগমসহ ছয়জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।

আহতদের প্রথমে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতাল হয়ে ঢাকার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঘটনার ১০ দিন পর সোমবার দুপুরে সজিব আকনের মৃত্যু হয়। অন্য আহতরা এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় ২২ মার্চ নিহতের বড় ভাই রুহুল আমিন আকন বাদী হয়ে সোনা মিয়া প্যাদাকে প্রধান আসামি করে ১৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা মামলা করেন। পরে ২৪ মার্চ মামলার আট আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন।

নিহত সজিব আকন ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন। ঈদ উপলক্ষে ২০ মার্চ তিনি বাড়িতে আসেন। নিহতের ভগ্নিপতি আশরাফুল ইসলাম জুয়েল বলেন, মাত্র ১০০ টাকার বিরোধ থেকেই পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে পরিবারের সদস্যদের কুপিয়ে জখম করা হয়। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে আমতলী থানার ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, আটজন আসামি আদালত থেকে জামিনে আছেন এবং বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।