
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের সঙ্গে নতুন সংসদ গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা দায়িত্ব গ্রহণের পর শুধুমাত্র বেতন নয়, বরং বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধাও পাবেন, যা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা সহজ করার জন্য নির্ধারিত।
আইনের বিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের জন্য বিভিন্ন ভাতা ও প্রশাসনিক সুবিধা নির্ধারিত আছে। মূল বেতনের পাশাপাশি নির্বাচনী এলাকা পরিচালনা, আপ্যায়ন, অফিস খরচ, পরিবহন, লন্ড্রি ও অন্যান্য কার্যকরী খরচের জন্য আলাদা ভাতা দেওয়া হয়। পরিবহন ভাতার মধ্যে জ্বালানি খরচ, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ এবং চালকের বেতন অন্তর্ভুক্ত।
সংসদ সদস্যরা যানবাহন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিশেষ সুবিধা ভোগ করেন। তারা শুল্ক, ভ্যাট ও অন্যান্য করমুক্তভাবে একটি গাড়ি, জিপ বা মাইক্রোবাস আমদানির সুযোগ পান। দায়িত্বকাল শেষ হলেও একই সুবিধায় পুনরায় গাড়ি আমদানির অধিকার থাকছে।
ভ্রমণ সুবিধার ক্ষেত্রেও বরাদ্দ রয়েছে। বিমান, রেল বা নৌপথে যাতায়াতে সর্বোচ্চ শ্রেণির ভাড়া পর্যন্ত ভাতা পাওয়া যায়। দেশের ভেতরের চলাচলের জন্য বার্ষিক ভ্রমণ ভাতা বা ট্রাভেল পাস সুবিধা দেওয়া হয়। সংসদ অধিবেশন ও কমিটির বৈঠকে অংশগ্রহণের সময় দৈনিক ভাতা ও যাতায়াত ভাতা কার্যকর হয়।
চিকিৎসা সুবিধায় সংসদ সদস্য ও তাদের পরিবার সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের সমমানের সুবিধা পান। মাসিক চিকিৎসাভাতা এবং দায়িত্ব পালনকালে দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী অক্ষমতার ক্ষেত্রে সরকারি বীমা সুবিধাও নিশ্চিত। এছাড়া একটি ঐচ্ছিক অনুদান তহবিল ব্যবহার করে সামাজিক ও মানবিক কাজে খরচ করার সুযোগ রয়েছে।
টেলিযোগাযোগ সুবিধার অংশ হিসেবে সংসদ সদস্যদের বাসভবনে সরকারি খরচে টেলিফোন সংযোগ প্রদান করা হয় এবং মাসিক কল খরচের জন্য বরাদ্দ রয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সংসদ সদস্যদের জন্য নির্ধারিত এসব ভাতা আয়করমুক্ত। অর্থাৎ, বেতনের পাশাপাশি দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন খাতে রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্ধারিত বহুমুখী সুবিধা কার্যকর রয়েছে।
মোটমাট, সংসদ সদস্যদের কার্যকর দায়িত্ব পালনের জন্য আর্থিক, প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা রাষ্ট্রীয়ভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।