
ভারতের ঐতিহ্যবাহী ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দ সফর করেছেন আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি।
শনিবার (১১ অক্টোবর) তিনি উত্তর প্রদেশের ঐতিহাসিক এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করেন। এ সময় তাকে উষ্ণ সংবর্ধনা জানানো হয় এবং বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
বর্তমানে সাত দিনের সরকারি সফরে ভারতে অবস্থান করছেন মুত্তাকি। তার এই সফরকে ভারত-আফগান কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দেওবন্দ সফরকালে তিনি প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক মুফতি আবুল কাসেম নোমানী এবং ভারতের জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা আরশাদ মাদানিসহ শীর্ষ ইসলামি আলেমদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি দারুল উলুমের ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
তালেবান শাসন শুরু হওয়ার পর এটাই কোনো জ্যেষ্ঠ তালেবান নেতার প্রথম দেওবন্দ সফর। সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে দেওবন্দে পৌঁছালে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান মুফতি নোমানী ও ১৫ সদস্যের আলেম প্রতিনিধি দল। ছাত্র ও শিক্ষকরা ফুল ছিটিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান।
প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে অনুষ্ঠিত এক ঐতিহ্যবাহী হাদিস পাঠ অনুষ্ঠানে অংশ নেন মুত্তাকি। সেখানে তাকে হাদিস শিক্ষাদানের সার্টিফিকেট বা সনদ প্রদান করা হয়, যার মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কাসেমী’ উপাধি অর্জন করেন। এখন থেকে তার নামের সঙ্গে যুক্ত হবে— মাওলানা আমির খান মুত্তাকি কাসেমী।
এই সম্মাননা কেবল তার জ্ঞানগত মর্যাদাকেই প্রতিফলিত করে না, বরং তাকে দেওবন্দি ধারার অংশ হিসেবেও স্বীকৃতি দেয়— যে ধারার প্রভাব আফগান ধর্মীয় শিক্ষায় গভীরভাবে বিদ্যমান।
জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা আরশাদ মাদানী এ সফরকে ‘একটি ঘরে ফেরা’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “মুত্তাকি যেন নিজের শিক্ষালয়ে ফিরে এসেছেন।”
ধন্যবাদ জ্ঞাপন বক্তব্যে মুত্তাকি বলেন, “এই হৃদয়স্পর্শী অভ্যর্থনার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আশা করি ভারত ও আফগানিস্তানের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হবে। আমরা নতুন কূটনীতিক পাঠাবো, এবং আপনাদেরও কাবুলে স্বাগত জানাতে চাই।”
আগামীকাল (রোববার) তিনি আগ্রা সফরে যাবেন এবং ঐতিহাসিক তাজমহল পরিদর্শন করবেন। সোমবার নয়াদিল্লিতে ভারতের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও শিল্প প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বাণিজ্য বৈঠকেও অংশ নেবেন তিনি।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার ছাড়পত্র পাওয়ার পর তার এই সফর সম্ভব হয়েছে। এটি ভারতের সঙ্গে তালেবান সরকারের ক্রমবর্ধমান যোগাযোগ ও আংশিক আনুষ্ঠানিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
চলতি বছরের শুরুর দিকে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি কাবুলে গিয়ে মুত্তাকির সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন, যা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত খুলে দেয়।