ভিটামিন ডি আমাদের শরীরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

image 344

ভিটামিন ডি পাওয়ার সেরা সময়: সকাল না বিকেল?

ভিটামিন ডি শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি হাড় মজবুত রাখে, পেশি শক্তিশালী করে, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, মুড ঠিক রাখে এবং বিপাক নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তবু দক্ষিণ এশিয়ার অনেক মানুষ, বিশেষ করে ভারত ও বাংলাদেশে, প্রচুর সূর্যালোক থাকা সত্ত্বেও ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিতে ভোগে।

ভোরবেলা নরম রোদ ভিটামিন ডি-এর জন্য ভালো?
বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন, ভোরবেলা নরম রোদ ভিটামিন ডি তৈরির জন্য উপযুক্ত। কিন্তু সার্জিক্যাল গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ডা. অংশুমান কৌশল বলেছেন, সকাল ৭টার আগে UVB রশ্মি ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরি করতে যথেষ্ট শক্তিশালী থাকে না।

সেরা সময়:
সকালে ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সূর্যের UVB রশ্মি সবচেয়ে কার্যকর। এই সময় ১০–১৫ মিনিট সরাসরি রোদে থাকলেই ত্বকে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি তৈরি হয়। ত্বকের হাত, পা ও মুখ যেন সূর্যালোকে থাকে। সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে UVB রশ্মি ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরি করতে পারে না।

জানালা থেকে ভিটামিন ডি পাওয়া যায় কি?
না, কাচ UVB রশ্মি পার হতে দেয় না। তাই জানালার পাশে বসলেই ভিটামিন ডি তৈরি হবে এমন ধারণা ভুল।

ভিটামিন ডি ঘাটতির ঝুঁকি ও সমাধান:

  • যারা বেশি সময় ঘরে থাকেন, দূষণের মধ্যে থাকেন বা সব সময় সানস্ক্রিন ব্যবহার করেন, তাদের ভিটামিন ডি কম থাকে।
  • দক্ষিণ এশিয়ার ৮০–৯০% মানুষ ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিতে ভোগে। এর ফলে হাড় ক্ষয়, বারবার সর্দি-কাশি, পেশি দুর্বলতা, ক্লান্তি ও বিষণ্নতা বাড়তে পারে।
  • পর্যাপ্ত রোদ না পেলে খাবার থেকে ভিটামিন ডি নেওয়া যেতে পারে। যেমন: স্যালমন, টুনার, কড লিভার তেল, ডিমের কুসুম, মাশরুম ও দই।

সতর্কতা:

  • ডিপ ফ্রাই বা অতিরিক্ত তাপে রান্না করলে ভিটামিন ডি নষ্ট হয়।
  • রক্তে ভিটামিন ডি ২০ এনজি/এমএল-এর নিচে থাকলে সাপ্লিমেন্ট প্রয়োজন হতে পারে, তবে ডাক্তার দেখানোর পরই নেওয়া উচিত।
  • সাপ্লিমেন্ট সবসময় চর্বিযুক্ত খাবারের সঙ্গে গ্রহণ করুন।

অতিরিক্ত টিপস:

  • সূর্যের তাপে দীর্ঘ সময় থাকবেন না।
  • শিশুদের খুব বেশি সময় রোদে রাখবেন না।
  • অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট খাওয়া উচিত নয়।
  • নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করুন।