
শরীয়তপুরে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে শিশু শিক্ষার্থী হৃদয় খান নিবিড় (১১) হত্যার দায়ে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় এক কিশোরকে ২১ বছরের আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান এই রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- শরীয়তপুর সদর উপজেলার খিলগাঁও এলাকার শাকিল হোসেন গাজী (১৯) এবং সিংগা এলাকার সিয়াম হোসেন (২০)। অপরদিকে, খিলগাঁও এলাকার ১৬ বছর বয়সী কিশোর তুহিনের বিচার শিশু আদালতে হওয়ায় তাকে ২১ বছরের আটকাদেশ দেওয়া হয়।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৩১ জুলাই হৃদয় খান নিখোঁজ হয়। সে সদর উপজেলার খিলগাঁও এলাকার মনির খানের ছেলে। নিখোঁজের ঘটনায় ওই রাতেই তার মা নিপা আক্তার পালং মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরদিন রাতে অপহরণকারীরা নিপা আক্তারের মোবাইলে ফোন করে মুক্তিপণ হিসেবে ১০ লাখ টাকা দাবি করে। ফোন নম্বরের সূত্র ধরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে শাকিল হোসেন গাজী, সিয়াম হোসেন ও ওই কিশোরকে আটক করে।
আটকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৩ সালের ১ আগস্ট জেলা শহরের একটি ইটভাটা থেকে মাটিচাপা অবস্থায় হৃদয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের দাদা মমিন আলী খান বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে আসামিরা শরীয়তপুর চিফ জুডিসিয়াল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
প্রাথমিক তদন্ত পালং মডেল থানার এক কর্মকর্তা পরিচালনা করেন। পরে তদন্তভার দেওয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে। পিবিআই ২০২৪ সালের ১ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
নিহত হৃদয়ের মা নিপা আক্তার বলেন, “ওরা টাকার জন্য আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। আড়াই বছর ধরে সন্তানের জন্য হাহাকার করছি। একটি রাতও শান্তিতে ঘুমাতে পারিনি। যাকে শিশু দাবি করে ২১ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে, সে মূল পরিকল্পনাকারী। রাষ্ট্রের কাছে আমার আবেদন, আসামিরা যেন উচ্চ আদালতে গিয়ে খালাস না পায় এবং দ্রুত রায় কার্যকর করা হয়।”
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) কামরুল হাসান জানান, “মামলায় একজনের বিচার শিশু আদালতে হওয়ায় তাকে ২১ বছরের আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে। অপর দুইজনের বিচার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে হয়েছে এবং তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন করেছিল। আদালতের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।”