চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গাছ পাচার, ৭৪টি গুঁড়ি উদ্ধার

image 83

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) আবারও ‘পুষ্পা’ সিনেমার কায়দায় ঝিরি ব্যবহার করে বিপুলসংখ্যক গাছের গুঁড়ি পাচারের চেষ্টা ধরা পড়েছে। ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থল থেকে ৭৪টি গাছের গুঁড়ি জব্দ করেছে। এ ঘটনা ঘটে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেনের পেছন দিয়ে প্রবাহিত ঝিরিতে।

ঘটনার দিন বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ২২-২৩ সেশনের কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস ভ্রমণে বের হন। ঝিরির কাছে পৌঁছালে তারা প্রবল স্রোতের সঙ্গে অনেক গাছের গুঁড়ি ভেসে যেতে দেখেন। পরে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট করা হয়, যা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওটির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ধারণকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দফতরের টহল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রথমে কিছু না পাওয়ার পর টহল টিম এবং কিছু ক্যাম্পাস সাংবাদিক ঝিরি ধরে এগোতে থাকেন। কিছুদূর যাওয়ার পর একের পর এক গাছের গুঁড়ি পাওয়া যায় এবং মোট ৭৪টি গুঁড়ি উদ্ধার করা হয়।

নিরাপত্তা অভিযানটি পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দফতরের সুপারভাইজার শাহেদুল ইসলাম। তিনি জানান, ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমান উল্লাহকে বিষয়টি অবহিত করা হয় এবং দ্রুত টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো হয়। গাছের গুঁড়ি যাতে কেউ সরিয়ে নিতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে রাতের সময়ে আট সদস্যের টহল টিম মোতায়েন করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, গাছের প্রকৃত মালিক এখন পর্যন্ত শনাক্ত করা যায়নি। জব্দকৃত গুঁড়িগুলো রাখা হয়েছে এবং ঘটনাস্থলে নিরাপত্তাকর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। তিনি আরও জানান, গাছগুলো মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থেকে আসে এবং এগুলো কাটার জন্য বনবিভাগের অনুমতি প্রয়োজন। সুনির্দিষ্ট মালিক বা ক্লিয়ারেন্স প্রমাণ না পাওয়া গেলে, জব্দকৃত গাছের গুঁড়ি নিলাম কমিটির সঙ্গে বৈঠক করে নিলামে তোলা হবে।

এর আগে গত বছরও একই কায়দায় গাছ পাচারের ঘটনা ঘটে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল।