অসুস্থ হলে যে দোয়া বেশি বেশি পড়বেন

image 236

প্রতিটি মানুষ চায় সুস্থ থাকতে। সুস্থতা জীবনের এক মহান নিয়ামত। কিন্তু মানুষের জীবন স্বাভাবিকভাবে সুস্থতা ও অসুস্থতার সমন্বয়ে গঠিত। জীবনের কোনো না কোনো সময় অসুস্থতা মানুষের কাছে আসেই। এই সময়ে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিঘ্নিত হয়, মন ও শরীর কষ্টে ভরে যায়। অসুস্থতা মানুষকে দুর্বল করে, কাজের শক্তি কমিয়ে দেয় এবং চিন্তার ভার বৃদ্ধি পায়। কেউই অস্বাভাবিক বা কষ্টপূর্ণ জীবনযাপন করতে চায় না। তাই মানুষ সুস্থ থাকার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করে; চিকিৎসা নেয়, দোয়া করে এবং সচেষ্ট থাকে।

ইসলামও অসুস্থ হলে চিকিৎসা নেওয়ার তাগিদ দেয়। চিকিৎসা অবহেলার অনুমতি দেয় না। একই সঙ্গে অসুস্থতার মাধ্যমে গুনাহ মাফ ও বিপুল সওয়াবের প্রতিশ্রুতি দেয়। অর্থাৎ কষ্টের মাঝেও আছে রহমত, পরীক্ষার মাঝেও রয়েছে পুরস্কার।

অসুস্থ হলে সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তবে এর পাশাপাশি আল্লাহর কাছে দোয়া করা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রকৃত আরোগ্য একমাত্র তাঁর কাছ থেকেই আসে। মানুষ যখন অসুস্থ হয়ে নিজের অসহায়ত্ব অনুভব করে আল্লাহর কাছে হাত তোলে, তখন আল্লাহ তা শুনেন। নিজের জন্য বা অন্যের জন্য দোয়া করলে আল্লাহ সুস্থতা দান করেন।

এ প্রসঙ্গে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অসুস্থদের জন্য একটি বিশেষ দোয়া শিখিয়েছেন। তিনি নিজেও এই দোয়ার মাধ্যমে রোগীদের জন্য ঝাড়ফুঁক ও আরোগ্য দিতেন। এতে রয়েছে গভীর বিশ্বাস ও পরিপূর্ণ তাওয়াক্কুল।

আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই দোয়া পাঠ করে অসুস্থ ব্যক্তিদের ঝাড়ফুঁক করতেন।

اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ أَذْهِبْ الْبَاسَ اشْفِهِ وَأَنْتَ الشَّافِي لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা রাব্বান নাসি উজহিবাল বা’সি, ইশফিহি ওয়া আনতাশ-শাফি, লা শিফায়া ইল্লা শিফায়ুকা শিফায়ান লা ইউগাদিরু সাকমা।

অর্থ: হে আল্লাহ। মানুষের প্রতিপালক। কষ্ট দূরকারী। আমাকে আরোগ্য দিন। আপনি আরোগ্যকারী। আপনি ছাড়া কোনো আরোগ্যকারী নেই। এমন আরোগ্য দিন যেন কোনো রোগ অবশিষ্ট না থাকে। (বুখারি, হাদিস : ৫৭৪২)

এই দোয়ায় মানুষের অসহায়ত্ব প্রকাশ পায়। একই সঙ্গে আল্লাহর সর্বশক্তিমান হওয়ার ঘোষণা আসে। বান্দা স্বীকার করে নেয়, সুস্থতা কেবল তাঁর কাছ থেকেই আসে।

অসুস্থতা কষ্টের হলেও তা আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ পরীক্ষা। এই পরীক্ষার ভেতরেই লুকিয়ে আছে রহমত। আছে গুনাহ মোচনের সুযোগ। আছে আল্লাহর নৈকট্য লাভের পথ।

তাই অসুস্থ হলে হতাশ না হয়ে চিকিৎসা নিতে হবে। ধৈর্য ধরতে হবে। আর আল্লাহর কাছে বারবার দোয়া করতে হবে। কারণ তিনিই শাফি। তিনিই আরোগ্য দানকারী। তাঁর দেওয়া আরোগ্য এমন, যেখানে আর কোনো রোগ অবশিষ্ট থাকে না।