
নড়াইলে স্বামীর স্বীকারোক্তিতে স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার
নড়াইলের কালিয়ায় নিখোঁজের এক মাস আট দিন পর স্বামী আল-আমীন মন্ডলের স্বীকারোক্তিতে তার স্ত্রী সুমি ওরফে আলপনার (৩৫) গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় স্বামী **আল-আমীন মন্ডল ওরফে ইরানুর (৪২)**কে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে বাবরা-হাচলা ইউনিয়ন কমিউনিটি ক্লিনিকের সেপটিক ট্যাংক থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত সুমি কালিয়া উপজেলার শুক্তগ্রাম (পূর্বপাড়া) এলাকার বাসিন্দা এবং লোহাগড়া উপজেলার কুমড়ি গ্রামের আজমল মোল্যার মেয়ে। অভিযুক্ত আল-আমীন শুক্তগ্রামের মৃত জিল্লু মন্ডলের ছেলে।
কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. ইদ্রিস আলী জানান, গত ১৯ ডিসেম্বর রাত ১০টার পর সুমি তার শ্বশুরবাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। তার পরদিন ভাই সাকিব থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পুলিশ ছায়া তদন্তের মাধ্যমে স্বামীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পান। জিজ্ঞাসাবাদে আল-আমীন পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করার কথা স্বীকার করেন। এরপর তিনি জানান, মরদেহ গোপন করতে বাড়ির পাশে সেপটিক ট্যাংকে ফেলে রেখেছিলেন।
নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, আল-আমীন কোনো কাজ না করে সুমির জমানো টাকা ব্যবহার করতেন এবং বিভিন্ন নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক রাখতেন। এ নিয়ে দাম্পত্য কলহ লেগেই থাকত, যার ফলে সুমিকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। তারা হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
মরদেহ সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, হত্যার মূল কারণ পারিবারিক কলহ। মামলার পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।