শহীদ আবু সাঈদের আসনে এমপি হলেন মসজিদের ইমাম

শহীদ আবু সাঈদের আসনে এমপি হলেন মসজিদের ইমাম

জুলাই বিপ্লবের অগ্রদূত শহীদ আবু সাঈদের রক্তস্নাত পীরগঞ্জ (রংপুর-৬) আসনে ইতিহাস রচনা করেছেন ৫১ বছর বয়সী মাওলানা মো. নুরুল আমীন। মসজিদের মিম্বর থেকে সরাসরি জাতীয় সংসদে ওঠার এই ঘটনা এখন সারা দেশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাতে রংপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান তাকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের প্রার্থী হিসেবে জামায়াতে ইসলামের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে লড়েছেন মাওলানা নুরুল আমীন। তিনি ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট পেয়েছেন, যা তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির রংপুর জেলা আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম (ধানের শীষ প্রতীকে) ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোটের চেয়ে ২ হাজার ৪২৫ বেশি। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে জয়ী হওয়া এই ইসলামী ব্যক্তিত্ব শুধুমাত্র রাজনীতিক নয়, বরং একজন ধর্মীয় পণ্ডিত হিসেবেও সর্বজনশ্রদ্ধেয়।

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মাওলানা নুরুল আমীন পীরগঞ্জ সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক এবং দক্ষ ইমাম ও খতিব। তিনি বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরিন কেন্দ্রীয় কমিটির জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি পীরগঞ্জের চতরা ইউনিয়নের ‘আলতাব নগর জামে মসজিদ’-এর খতিব। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর পরদিনও মসজিদে ইমামতি করতে দেখা গেছে, যেখানে হাজার হাজার মুসল্লি তাকে একনজর দেখার জন্য ভিড় জমান।

বিজয় পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় মাওলানা নুরুল আমীন বলেন, “আল্লাহর রহমত ছাড়া কিছুই সম্ভব নয়। ভোটাররা আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। এখন আমার কাজ হলো দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে শহীদ আবু সাঈদের পীরগঞ্জকে নতুন করে সাজানো।”

তিনি আরও বলেন, “আমি কেবল ১১ দলের প্রার্থী নই, বরং এই আসনের প্রতিটি মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে কথা বলব।” পাশাপাশি, তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য।

মাওলানা নুরুল আমীন ১৯৭৪ সালের ১ মার্চ পীরগঞ্জ পৌরসভার দুরামীতিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মাওলানা আজিজুর রহমান এবং মা আমেনা খাতুন। শহীদ আবু সাঈদের উত্তরসূরি হিসেবে পীরগঞ্জের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে তিনি কতটা ভূমিকা রাখতে পারবেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।