রাজধানীতে ভয়ংকর ছিনতাইকারী চক্র, তথ্য দিল র‌্যাব

image 27

গভীর রাত থেকে ভোরে রাজধানীর রাস্তায় বের হলেই পড়তে হচ্ছে ভয়ংকর বিপদে। অটোরিকশায় এসে চাপাতি ও সামুরাই দিয়ে কুপিয়ে সর্বস্ব ছিনিয়ে নিচ্ছে দুর্ধর্ষ এক ছিনতাইকারী চক্র। রামপুরা, মালিবাগ, শান্তিনগর, খিলগাঁও, শাহজাহানপুর ও সবুজবাগ এলাকায় সক্রিয় এই চক্রের তথ্য দিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাব জানায়, গ্রেফতার এড়াতে চক্রের সদস্যরা একেক সময় একেক বস্তিতে আত্মগোপন করে। গত বছর দুটি দুর্ধর্ষ ছিনতাইয়ের ঘটনায় মূলহোতাসহ দুজনকে গ্রেফতারের পর এসব তথ্য পাওয়া যায়।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গত বছরের ৩ ডিসেম্বর সকাল ৮টা ১০ মিনিটে খিলগাঁওয়ের তিলপাপাড়া এলাকা থেকে অটোরিকশায় যাচ্ছিলেন সুজন ও মাহবুব নামে দুই যুবক। পথিমধ্যে আরেকটি অটোরিকশায় আসা দুই ছিনতাইকারী চাপাতি ঠেকিয়ে তাদের গতিরোধ করে। সঙ্গে থাকা সব কিছু লুট করে মুহূর্তেই তারা পালিয়ে যায়। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

image 28

ছায়া তদন্তে র‌্যাব জানতে পারে, এর আগেও গত ২৪ অক্টোবর মালিবাগের প্রথম লেনে একই কায়দায় ছিনতাই করা হয়। ওই ঘটনায় এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বাধা দিলে তাকে চাপাতি দিয়ে আঘাত করা হয়। কয়েকশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে র‌্যাব মালিবাগের ঘটনায় কাঙালি সুজন ও সাইফুল নামে দুজনকে গ্রেফতার করে।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, চক্রটির মূলহোতা সুজন শিকদার। দেড় মাসের চেষ্টায় হাতিরঝিলের একটি রিকশার গ্যারেজ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার সহযোগী রুবেলও ধরা পড়ে।

র‌্যাব জানায়, প্রতিটি ছিনতাইয়ে অটোরিকশা চালক ও সহযোগী পরিবর্তন করত সুজন। গ্রেফতার এড়াতে সে বিভিন্ন বস্তি ও গ্যারেজে রাত কাটাত। তার বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় অস্ত্র, ছিনতাই ও মাদকসহ ১১টি মামলা রয়েছে। সহযোগী রুবেলের বিরুদ্ধে রয়েছে ৭টি এবং কাঙালি সুজনের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা।

র‌্যাব-৩ এর উপ-অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার মো. সাইদুর রহমান জানান, চক্রের সদস্যরা নিয়মিত মাদক সেবন করত। এজন্য তারা রাত জেগে সহজেই ছিনতাই করত এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পৌঁছানোর আগেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেত। তিনি বলেন, চক্রটির আরও সদস্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।