
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির রাত। টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রেখে ফলাফলের অপেক্ষায় ছিল দেশের লাখো মানুষ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল একের পর এক প্রকাশিত হচ্ছিল, আর তার সঙ্গে বাড়ছিল মানুষের উত্তেজনা। কেউ প্রিয় প্রার্থীর জয়ে উল্লাস করেছে, কেউ হতাশ হয়েছে। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে ফুটে ওঠে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশবাসী অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছে। বহুদিন ধরে মানুষ এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের অপেক্ষায় ছিল। অবশেষে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়, আর নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারের নেতৃত্বে আসেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি এবারের নির্বাচনে এককভাবে ২১১টি আসনে জয়লাভ করে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরাও নির্বাচনকে অবাধ ও বিশ্বাসযোগ্য বলে উল্লেখ করেন। তাদের মতে, ভোট কারচুপি বা বড় ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এর আগে টানা কয়েকটি নির্বাচনে ভোটাধিকার নিয়ে বিতর্ক ও অনাস্থা তৈরি হয়েছিল। দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সৃষ্টি হয়। সেই ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠিত হয় এবারের জাতীয় নির্বাচন।
১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর জন্ম নেওয়া তারেক রহমান রাজনৈতিকভাবে বেড়ে ওঠেন এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারে। তার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন তার ওপর প্রভাব ফেলেছে।
তিনি ১৯৮৮ সালে বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণের মাধ্যমে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৯৩ সালে বগুড়া জেলা বিএনপির সদস্য হন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে দলীয় প্রচারণা সমন্বয়ের মাধ্যমে সংগঠক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ভূমিকা রাখেন। নির্বাচনে বিএনপির বড় জয় আসে, এবং ২০০২ সালে তাকে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব করা হয়।
পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও আইনি জটিলতার মধ্যে পড়ে তিনি দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে অবস্থান করেন। স্বাস্থ্যগত কারণেও তাকে বিদেশে থাকতে হয়। তবে সেই সময়েও তিনি দলীয় কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকেন এবং অনলাইনে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখেন।
২০১৮ সালে বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হলে তাকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয়। এরপর থেকে তিনি দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।
রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়কাল অতিক্রম করে ২০২৫ সালের শেষ দিকে তিনি দেশে ফেরেন। এরপর ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, সংগঠক হিসেবে অভিজ্ঞতা এবং দলীয় নেতৃত্বের ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়ে তিনি জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন। সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সুযোগ পান।
তার নেতৃত্বে নতুন সরকার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এ ঘটনাকে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।