
ময়মনসিংহ সার্কিট হাউস মাঠে নির্বাচনী জনসভা শেষে গাজীপুরের রাজবাড়ি মাঠের জনসভায় যোগ দিতে বিশেষ বাসে করে ফিরছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ থেকে ফেরার পথে ভালুকা উপজেলার সিডস্টোর এলাকায় এক কিশোরীর হাত নাড়ানোর দৃশ্য তার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বিষয়টি লক্ষ্য করে তিনি গাড়িবহর থামানোর নির্দেশ দেন।
বাস থামলে ওই কিশোরী বাসের দরজার সামনে এসে দাঁড়ায়। তারেক রহমান দরজা খুলে দিলে কিশোরী স্বাচ্ছন্দ্য ও সাবলীল ভঙ্গিতে তার সঙ্গে কথা বলেন এবং নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন। দৃঢ়তার সঙ্গে সে জানায়, মানুষের ও জনগণের সেবা করার মাধ্যমে রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে ভবিষ্যতে সংসদে গিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করার স্বপ্ন তার। রাজনীতি তার রক্তে—এ কথা জানিয়ে সে রাজনীতি ছাড়বে না বলেও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে এবং দোয়ার আবেদন জানায়।
কিশোরীর আবেদনে সাড়া দিয়ে তারেক রহমান তার মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করেন এবং তার সঙ্গে হাত মেলান। কিশোরী আরও বলেন, তার সঙ্গে দেখা করতে পেরে সে খুবই আনন্দিত এবং দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এজন্য সে কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করে।
এ সময় কিশোরী সদ্য প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার একটি বাঁধানো ছবি তারেক রহমানের হাতে তুলে দিয়ে অনুরোধ জানায় তা গ্রহণ করার জন্য। তারেক রহমান ছবিটি গ্রহণ করে কিশোরীকে ধন্যবাদ জানান।
পরে কিশোরী আবারও তারেক রহমানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সালাম জানায়। জবাবে তিনি সালামের উত্তর দেন। এরপর কিশোরী তারেক রহমানের পাশে বসা তার সহধর্মিণী ডা. জোবায়দা রহমানকেও সালাম জানিয়ে বিদায় নেয়। কিশোরীর সঙ্গে থাকা এক যুবকও তারেক রহমান ও ডা. জোবায়দা রহমানকে সালাম জানিয়ে বিদায় জানান। এরপর বাসটি গাজীপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে।
তারেক রহমানের এই মানবিক আচরণ ও সাধারণ মানুষের প্রতি তার আন্তরিকতার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।
জানা গেছে, ওই কিশোরীর নাম সাফওয়ানা সিদ্দিক রেয়ান। সে সিডস্টোর সাহারা নায়েব গার্লস স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবার নাম মো. সোহেল এবং মায়ের নাম লিয়া আক্তার। রেয়ানের সঙ্গে ছিলেন তার ছোট চাচা, ছাত্রদল নেতা মাওলানা মোহাইমুন ইসলাম রাফি। তাদের বাড়ি ভালুকা উপজেলার সিডস্টোর হবির বাড়ি এলাকায়। রেয়ানের বাবা মো. সোহেলও এক সময় ছাত্রদলের কর্মী ছিলেন।