
কুমিল্লার বহুল আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় নতুন মোড় আসতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকার কারণে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, পিবিআই-ঢাকার পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলামকে আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) আদালতে তলব করা হয়েছে। দীর্ঘ এক দশকেও বিচার না পাওয়া তনুর পরিবার এই তলবের মাধ্যমে নতুন করে ন্যায়বিচারের আশা দেখছে।
কুমিল্লার সংশ্লিষ্ট আদালত সম্প্রতি মামলার অগ্রগতি জানতে পিবিআইকে চিঠি পাঠায়। এর প্রেক্ষিতে তদন্ত কর্মকর্তা আজ আদালতে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেবেন।
তদন্ত কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, আদালত মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছে। তিনি আজ আদালতে তদন্তের বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ তুলে ধরবেন। তবে এখনই চার্জশিট বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে না।
দীর্ঘ ১০ বছরেও খুনিরা শনাক্ত না হওয়ায় তনুর বাবা ও মামলার বাদী ইয়ার হোসেন ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “মেয়ের হত্যার ১০ বছর পার হয়ে গেছে। অসংখ্যবার বিভিন্ন জায়গায় সাক্ষ্য দিয়েছি, কিন্তু এখনও কোনো ফল পাইনি। মরার আগে নতুন সরকারের কাছে মেয়ের হত্যার বিচার দেখতে চাই।” আদালত তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করায় তিনি আজ নিজে সশরীরে আদালতে উপস্থিত থাকবেন।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু। পরদিন সেনানিবাসের পাওয়ার হাউস সংলগ্ন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
শুরুতে থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরে মামলাটি ডিবি ও সিআইডির কাছে যায়। কোনো সংস্থা দৃশ্যমান অগ্রগতি করতে না পারায় ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর মামলাটি পিবিআইতে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে এটি ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার অধীনে রয়েছে। গত বছরের ৭ এপ্রিল পিবিআই সর্বশেষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও বাদীর বক্তব্য গ্রহণ করেছিল।
দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে আদালতের তলব করার ঘটনা তনুর পরিবারসহ সাধারণ মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। সকলের দৃষ্টি এখন আদালতের পরবর্তী নির্দেশনার দিকে।