টাঙ্গাইলের ৭ কলেজে কেউ পাশ হয়নি

image 404

এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় টাঙ্গাইলের ১২ উপজেলার ১০৭ কলেজের মধ্যে সাত কলেজের শিক্ষার্থী একটিও পাশ করতে পারেনি। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) ফলাফল প্রকাশের পর জেলা শিক্ষা অফিস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। শিক্ষাবিদরা জানিয়েছেন, নিয়মিত ক্লাশ না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা অকৃতকার্য হয়েছে।

অকৃতকার্য কলেজগুলো হলো: সদর উপজেলার আল্লামা ইয়াকুব আলী কলেজ, টাঙ্গাইল কলেজ, টাঙ্গাইল কমার্স কলেজ, শাহীন কলেজ, মির্জাপুরের ফতেপুর ময়নাল হক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মধুপুরের মধুপুর মহিলা কলেজ এবং গোপালপুরের হাদিরা বাধুরিচর কলেজ।

জেলার ১০৭ কলেজের মধ্যে ২৪টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এইচএসসি পরীক্ষায় ২৫,১৩০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন, এর মধ্যে ১১,১১৯ জন কৃতকার্য হয়েছে। পাশের হার ৪৪.২৫ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫৭৩ জন। আলিম পরীক্ষায় ১,৪৯০ জন অংশগ্রহণ করেন, ৯৯৭ জন পাশ করেছে (পাশের হার ৬৬.৯১%), জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৩ জন। বিএম পরীক্ষায় ২,২৬৫ জন অংশগ্রহণ করেছেন, ১,৩৯৫ জন কৃতকার্য হয়েছে (পাশের হার ৬১.৫৯%), জিপিএ-৫ পেয়েছেন পাঁচজন। ভোকেশনাল এইচএসসিতে ৫৩৮ জন অংশগ্রহণ করেছেন, ২৪০ জন কৃতকার্য হয়েছে (পাশের হার ৪৪.৬১%), জিপিএ-৫ পেয়েছেন একজন।

গত বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় আল্লামা ইয়াকুব আলী কলেজ ও হাদিরা বাধুরিচর কলেজ থেকে ১৬ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিলেন, সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। টাঙ্গাইল কলেজ থেকে ৯ জন অংশ নিয়েছিলেন, সবাই অকৃতকার্য। টাঙ্গাইল কমার্স কলেজ, শাহীন কলেজ ও মধুপুর মহিলা কলেজ থেকে দুইজন শিক্ষার্থী করে অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। মির্জাপুরের ফতেপুর ময়নাল হক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১৮ জন অংশ নিয়েছিলেন, সবাই অকৃতকার্য। সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এসএম সাইফুল্লাহ বলেন, অভ্যুত্থানের পর শিক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্ব বাড়ানো হয়েছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে। কলেজে না গিয়ে বাসায় নামমাত্র পড়াশোনা করলে পাশ করা সম্ভব নয়। নিয়মিত ক্লাশ করতে হবে এবং শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানা বলেন, বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।