প্রকাশ্যে ধূমপান করলেই গুনতে হবে ২ হাজার টাকা জরিমানা

image 3

বিদ্যমান আইনকে আরও কঠোর করে প্রস্তাবিত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুমোদন দিয়েছে সরকার। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর অধ্যাদেশটি কার্যকর হয়েছে।

সংশোধিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী, পাবলিক প্লেসে ধূমপানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ৩০০ টাকার জরিমানা বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি ধূমপান ও তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের অন্যান্য অপরাধের ক্ষেত্রেও শাস্তির মাত্রা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই আইনের মূল লক্ষ্য হলো তামাক ও নিকোটিনজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া, বিড়ি উৎপাদনসংক্রান্ত পৃথক অধ্যাদেশ বাতিল করে একীভূত আইন প্রণয়ন করা এবং ই-সিগারেট, ভ্যাপ, হিটেড টোব্যাকোসহ উদীয়মান তামাকপণ্য সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা।

অধ্যাদেশের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ও সংযোজন

১. তামাকজাত দ্রব্যের সংজ্ঞা সম্প্রসারণ
ই-সিগারেট, ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (ENDS), হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (HTP), নিকোটিন পাউচসহ সব উদীয়মান পণ্যকে তামাকজাত দ্রব্যের সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন যেকোনো পণ্যকে তামাকজাত দ্রব্য হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে। একই সঙ্গে ‘নিকোটিন’, ‘নিকোটিনজাত দ্রব্য’ ও ‘পাবলিক প্লেস’-এর সংজ্ঞা সম্প্রসারিত করা হয়েছে।

২. পাবলিক প্লেসে নিষেধাজ্ঞা
সব পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপান এবং তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই বিধান লঙ্ঘনে জরিমানা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

৩. বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মসহ সব মাধ্যমে তামাকের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিক্রয়কেন্দ্রে প্যাকেট প্রদর্শন, প্রচারণা, করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR) কার্যক্রমে তামাক কোম্পানির নাম বা লোগো ব্যবহার এবং কোনো অনুষ্ঠান বা কর্মসূচিতে তামাক কোম্পানির অর্থায়ন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

৪. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের আশপাশে বিক্রয় নিষিদ্ধ
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলার মাঠ ও শিশুপার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

৫. ই-সিগারেট ও উদীয়মান তামাকপণ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
ই-সিগারেট ও অন্যান্য উদীয়মান তামাকপণ্যের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিক্রয় ও ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

৬. কুম্ভি পাতা ও টেন্ডু পাতার বিড়ি নিষিদ্ধ
কুম্ভি পাতা ও টেন্ডু পাতার বিড়ির উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত পৃথক Bidi Manufacture (Prohibition) Ordinance, 1975 বাতিল করা হয়েছে।

৭. আসক্তিমূলক দ্রব্য মিশ্রণ নিষিদ্ধ
তামাক বা তামাকজাত দ্রব্যের সঙ্গে কোনো ক্ষতিকর বা আসক্তিমূলক উপাদান মেশানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

৮. স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা ও স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং
তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটের অন্তত ৭৫ শতাংশ জায়গাজুড়ে রঙিন স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা ও ছবি সংবলিত স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ বিধান ছাড়া কোনো তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি করা যাবে না।

৯. শাস্তি ও প্রয়োগ ব্যবস্থা জোরদার
জরিমানা ও কারাদণ্ডের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। কোম্পানির ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাতিল, মালামাল জব্দ এবং ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী মামলা পরিচালনার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।