বিবাহবার্ষিকীর দিনেই দেওয়া হলো শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়

image 251

গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তার বিরুদ্ধে আনা পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে দুইটিতে মৃত্যুদণ্ড এবং একটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায় দেওয়া হয়।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) ঘোষিত এই মৃত্যুদণ্ডের দিনটি কাকতালীয়ভাবে মিলে যায় শেখ হাসিনার বিবাহবার্ষিকীর সঙ্গে। ১৯৬৭ সালের এই দিনেই তিনি পরমাণুবিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক অধ্যয়নকালে তাদের বিয়ে হয়। ২০০৯ সালের ৯ মে ড. ওয়াজেদ মিয়া মারা যান।

এর আগে গত বছরের জুলাই–অগাস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় একই পাঁচটি অভিযোগের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এই দণ্ডাদেশ ঘোষণা করে।

ট্রাইব্যুনাল–১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ রায়টি ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অন্যান্য সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

রায় ঘোষণার সময় জনাকীর্ণ আদালতে আইনজীবী ছাড়াও গত বছরের জুলাই–অগস্টে নিহতদের কয়েকজন পরিবারের সদস্য উপস্থিত ছিলেন। আদালতে যাত্রাবাড়ী, রামপুরা, বাড্ডা, সাভার, আশুলিয়া, রংপুরসহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনের সময় প্রাণঘাতী গুলি ছুড়ে হত্যার ঘটনাগুলোর ভিডিও ও তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করা হয়।

মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে অংশবিশেষ তুলে শোনানো হয়। বেলা সোয়া ১টার দিকে গণঅভ্যুত্থান চলাকালে শেখ হাসিনা ও বিভিন্ন ব্যক্তির মধ্যকার টেলিফোন কথোপকথন আদালতে বাজানো হয়। এর কিছুক্ষণ আগে তখনকার তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে শেখ হাসিনার কথোপকথনও শোনানো হয়।

এই মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও অন্য দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। তিনজনের মধ্যে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান পলাতক, এবং দুজনই বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন।

একটি অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর রাজসাক্ষী হিসেবে স্বীকারোক্তি দেওয়ায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, গত ১৩ নভেম্বর এ মামলার রায়ের জন্য ১৭ নভেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।