শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলার ষষ্ঠ সাক্ষ্যগ্রহণ আজ

image 45

ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় ষষ্ঠ দফায় সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আজ রোববার (১৭ আগস্ট)।

ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চে আজকের সাক্ষ্যগ্রহণ হবে। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এর আগে গত ৬ আগস্ট চতুর্থ ও পঞ্চম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী সাক্ষ্যের জন্য এ দিন ধার্য করে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ ষষ্ঠ সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মধ্যে আবু সাঈদ হত্যার ঘটনাকে ঘিরে গতবার সাক্ষ্য দেন রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী রিনা মুরমু এবং এনটিভির রংপুর প্রতিনিধি এ কে এম মঈনুল হক। এর আগে আরও তিনজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

সেদিন প্রসিকিউশনের হয়ে শুনানি করেন মিজানুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন আরও কয়েকজন প্রসিকিউটর। অপরদিকে শেখ হাসিনার পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন। মামলার আরেক আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন যায়েদ বিন আমজাদ।

গত ১০ জুলাই এই মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। একইসঙ্গে রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন করলে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের আবেদন মঞ্জুর করা হয়।

এর আগে গত ১৬ জুন পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে আদালতে হাজির হতে একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলেও তারা আত্মসমর্পণ না করায় রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর মাধ্যমে তাদের পক্ষে শুনানি হয় এবং অভিযোগ গঠন করা হয়।

গত বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গত ১ জুন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল-১। একই মামলায় আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধেও মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। সেই পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালেই মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রথম মামলা দায়ের হয়।