সৌদি আরবের নতুন গ্র্যান্ড মুফতি শেখ ড. সালেহ আল-ফাওজান

image 503

সৌদি আরবের নতুন গ্র্যান্ড মুফতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশিষ্ট ইসলামি পণ্ডিত ও আলেম শেখ ড. সালেহ বিন ফাওজান বিন আবদুল্লাহ আল-ফাওজান। একই সঙ্গে তাকে সৌদি সিনিয়র আলেম পরিষদের চেয়ারম্যান এবং গবেষণা ও ফতওয়া বিষয়ক সভাপতির দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে। এই পদে তিনি মন্ত্রীর মর্যাদায় দায়িত্ব পালন করবেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ-এর জারি করা এক রাজকীয় আদেশে তার নিয়োগের বিষয়টি ঘোষণা করা হয়। রাজকীয় আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন গ্র্যান্ড মুফতির নিয়োগ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

বর্তমানে ৯০ বছর বয়সী ড. সালেহ আল-ফাওজান সৌদি আরবের অন্যতম শীর্ষ ইসলামি আলেম হিসেবে সুপরিচিত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সিনিয়র আলেম পরিষদের সদস্য, স্থায়ী ফতওয়া কমিটির সদস্য এবং বিভিন্ন ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৩৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের আল-কাসিম প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বাবার মৃত্যুর পর স্থানীয় একজন ইমামের কাছে কুরআন অধ্যয়ন শুরু করেন এবং পরবর্তীতে ইসলামি জ্ঞানচর্চায় নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিবেদিত করেন। রেডিওতে ‘নূর আলা আল-দারব’ অনুষ্ঠান ও টেলিভিশনে তার নিয়মিত উপস্থিতি তাকে দেশে-বিদেশে পরিচিত করে তোলে। তার দেওয়া ফতোয়া ও ধর্মীয় পরামর্শ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।

ইসলামি ফিকহ, আকিদাহ ও শরিয়াহ আইন বিষয়ে ড. আল-ফাওজান অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করেছেন, যেগুলো বিশ্বের বিভিন্ন ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠ্যপুস্তক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

দাওয়াতি কার্যক্রম, সুদৃঢ় শরিয়াহভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং ইসলামি সমাজে ইতিবাচক প্রভাবের কারণে তিনি শুধু সৌদি আরবেই নয়, সমগ্র মুসলিম বিশ্বে এক অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত।

ধর্ম বিষয়ক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ড. আল-ফাওজানের নেতৃত্বে সৌদি আরবের ধর্মীয় গবেষণা, ফিকহ ও ফতওয়া কার্যক্রম আরও শক্তিশালী ও প্রভাবশালী হবে।

এর আগে গ্র্যান্ড মুফতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন শেখ আবদুল আজিজ আল-শেখ, যিনি দীর্ঘদিন এই গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। গত ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি ৮১ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।