
২০১৫ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া গৃহবন্দি ছিলেন, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীর গ্রেফতার হন এবং পরে রুহুল কবির রিজভীকে অফিস থেকে গ্রেফতার করা হয়। দলের অন্যান্য সিনিয়র নেতাদের কেউ কারাগারে ছিলেন, কেউ আত্মগোপনে।
সেই সময় দলের কার্যক্রম চালানোর দায়িত্বে ছিলেন যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমদ। দলের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিগুলো তিনি গোপন স্থানে থেকেও পাঠাতেন, যা সরাসরি স্বৈরশাসক সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় লেখা হতো। এই কর্মকাণ্ডের কারণে সরকারের পক্ষ থেকে তাকে লক্ষ্য করে চিরুনি অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাতে রাজধানীর উত্তরা থেকে সালাহউদ্দিন নিখোঁজ হন। ৬২ দিন পর, ১১ মে ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ে তিনি উদ্ধার হন। ভারতের পুলিশ জানিয়েছিল, স্থানীয়দের ফোনের মাধ্যমে সালাহউদ্দিনকে আটক করা হয়েছে। তিনি পরে বেসরকারি টিভি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, চোখ বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয় এবং প্রথমে বুঝতে পারছিলেন না কোথায় নেওয়া হচ্ছে। শিলংয়ে চোখ খুলে তিনি মুক্তি পান এবং স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশের কাছে যান।
ভারতে অবৈধ প্রবেশের অভিযোগে সালাহউদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ২০১৮ সালে নিম্ন আদালত থেকে তিনি খালাস পান, তবে ভারত সরকার আপিল করলে ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি সেখান থেকে মুক্তি পান এবং ১১ আগস্ট ঢাকা হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেশে ফেরেন।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে উঠে আসেন এবং বিএনপির মনোনয়নে কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য হন।
সালাহউদ্দিন আহমদের জন্ম কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার পেকুয়া ইউনিয়নের সিকদার পাড়া গ্রামে ১৯৬২ সালে। প্রাথমিক শিক্ষা পেকুয়াতে, মাধ্যমিক চট্টগ্রাম কলেজ, এবং উচ্চশিক্ষা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে। ১৯৮৪ সালে এলএলবি ও ১৯৮৬ সালে এলএলএম সম্পন্ন করেন এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ১৯৮৫ সালে ৭ম বিসিএস পরীক্ষা উত্তীর্ণ হয়ে প্রশাসন ক্যাডারে প্রবেশ করেন। পরে বগুড়ার জেলা প্রশাসক এবং ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সহকারী একান্ত সচিব নিযুক্ত হন।
মন্ত্রিপরিষদ সংক্রান্ত প্রধান খবর:
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: শেখ রবিউল একসঙ্গে ৩ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী হন দীপেন দেওয়ান।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী হন সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী হন আমির খসরু।