
ধানমন্ডি হত্যা মামলা: গৃহকর্মী সুরভীকে মৃত্যুদণ্ড
সাত বছর আগে ঢাকার ধানমন্ডিতে আফরোজা বেগম ও তার গৃহকর্মী দিতি হত্যার ঘটনায় আদালত গৃহকর্মী সুরভী আক্তার নাহিদকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আফরোজার বাসার অন্য কর্মী বাচ্চু মিয়া খালাস পেয়েছেন।
ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ তাওহীদা আক্তার মঙ্গলবার এ রায় ঘোষণা করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের প্রসিকিউটর মাহফুজ হাসান জানান, “মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।”

রায় ঘোষণার আগে দুজন আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে সুরভীকে কারাগারে পাঠানো হয়, আর বাচ্চুকে মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়। বাচ্চুর খালাসে মামলার বাদী আফরোজা বেগমের মেয়ে দিলরুবা সুলতানা রুবা অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
মামলার পটভূমি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ১ নভেম্বর রাতে ধানমন্ডি ২৮ নম্বর (নতুন ১৫) রোডের ‘লোবেলিয়া হাউজ’ নামের ভবনের পঞ্চম তলা থেকে টিমটেক্স গ্রুপের এমডি কাজী মনির উদ্দিন তারিমের শাশুড়ি আফরোজা বেগম (৬৫) এবং তার গৃহকর্মী দিতি (১৮)-এর লাশ উদ্ধার করা হয়। দুজনকেই গলা কেটে হত্যা করা হয়েছিল।
আফরোজার ফ্ল্যাটের পাশের এবং উপরের তলার ফ্ল্যাটে তার মেয়ে দিলরুবা সুলতানা রুবা ও তার পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। তিনিই ৩ নভেম্বর মামলার অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
বিচার চলাকালে ৩২ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে দিলরুবা তার কাজের মেয়েকে আফরোজার ফ্ল্যাটে পাঠান। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ না হওয়ায় তিনি তার বাসার কর্মী রিয়াজকে ফ্ল্যাটে পাঠান। রিয়াজ আফরোজাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে দ্রুত দিলরুবাকে খবর দেন। দিলরুবা ভেতরে প্রবেশ করলে দেখতে পান আফরোজা বেগম ডাইনিং রুমে এবং দিতি পাশের গেস্টরুমে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন।