
দীর্ঘদিন গণমাধ্যমের আড়ালে থাকা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রায় দুই দশক পর মুখ খুললেন। তিনি কথা বলেছেন বিবিসি বাংলার সঙ্গে। সোমবার (৬ অক্টোবর) বিবিসি বাংলার ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত সাক্ষাৎকারে তিনি সমসাময়িক রাজনীতি, নিজের ভূমিকা এবং দেশে ফেরার পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।
সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান জানান, তিনি শিগগিরই দেশে ফিরতে চান এবং বহুল প্রত্যাশিত নির্বাচনের সময় জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকারও করেন।
গণমাধ্যম থেকে এতদিন দূরে থাকার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিষয়টি আসলে তেমন নয়। আমি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছি, তবে কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে তা প্রকাশ পায়নি। স্বৈরাচার সরকারের সময় আদালতের এক আদেশের মাধ্যমে আমার বক্তব্য প্রচারের অধিকার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। গণমাধ্যম চাইলেও তখন আমার কথা প্রকাশ করতে পারত না। প্রেসক্লাবে কথা বলার পরদিনই আমাকে ‘ফেরারি আসামি’ ঘোষণা করে আমার কণ্ঠ রুদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়। তবু আমি সামাজিক মাধ্যমসহ নানা পথে জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি।”
বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে না ফেরার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কিছু সঙ্গত কারণে এখনও ফেরা হয়নি। তবে মনে হয় সময় এসেছে। ইনশাআল্লাহ, খুব শিগগিরই দেশে ফিরবো।”
নির্বাচনের আগে দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, “আমি রাজনীতি করি, তাই জনগণের প্রত্যাশিত নির্বাচনের সময় আমি দূরে থাকবো—এটা সম্ভব নয়। আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে সেই সময়ে জনগণের পাশেই থাকার।”
নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বিভিন্ন মাধ্যমে নানান শঙ্কার কথা শোনা গেছে। এসব বিষয় আমরা অবগত আছি।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমি কখনও নিজেকে সেই আন্দোলনের ‘মাস্টারমাইন্ড’ মনে করিনি। আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল বহু আগে। এটি ছিল বাংলাদেশের জনগণের আন্দোলন—গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সব শ্রেণির মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা। রাজনীতিক, ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিক, কৃষক, সাংবাদিক—সবাই একসঙ্গে লড়েছিল। তাই এই আন্দোলনের প্রকৃত নায়ক বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ।”
ছাত্রনেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি যেহেতু দেশের বাইরে ছিলাম, অনলাইনের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখতে হয়েছে। তবে টেলিফোন ও ইন্টারনেট সংযোগের সীমাবদ্ধতা থাকায় সবসময় তা সহজ ছিল না। তারপরও প্রত্যেকে প্রত্যেককে সহযোগিতা করেছে, সেটাই আন্দোলনের শক্তি।”