প্রাথমিক শিক্ষকদের কর্মবিরতি শুরু, ৬৫ হাজার স্কুলে পাঠদান বন্ধ

image 127

দেশজুড়ে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে গেছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। দশম গ্রেডসহ তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন ও শাহবাগে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে তারা এই কর্মসূচি শুরু করেছেন। এর ফলে ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।

শনিবার (৮ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সহকারী শিক্ষকরা দশম গ্রেডে বেতন দাবি করে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। বিকেলে শাহবাগের দিকে পদযাত্রার সময় পুলিশ বাধা দিলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল ব্যবহার করে পুলিশ।

পরে সন্ধ্যায় চারটি শিক্ষক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’ অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দেয়।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম বলেন, “শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশের বর্বর হামলার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ জানাচ্ছি। আমাদের সমন্বয়ক মো. মাহবুবুর রহমানসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, “দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত সারাদেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস বন্ধ থাকবে এবং শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।”

শিক্ষকদের তিন দফা দাবি হলো—
১️⃣ সহকারী শিক্ষকদের দশম গ্রেডে বেতন প্রদান
২️⃣ উচ্চতর গ্রেড সংক্রান্ত জটিলতার স্থায়ী সমাধান
৩️⃣ শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির নিশ্চয়তা

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৬৫ হাজার ৫৬৭টি এবং এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার। কর্মবিরতি শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই দেশের সব বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ হয়ে গেছে।