পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৩০ টাকা বেড়েছে

image 68

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদন হওয়া এবং মাঠ থেকে নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করার পরও হঠাৎ অস্থির হয়ে উঠেছে পেঁয়াজের বাজার। কয়েক দিনের ব্যবধানে দামে বড় ধরনের উত্থান দেখা গেছে। দেশের বাজারে এখনও এক লাখ টনের বেশি পুরোনো পেঁয়াজ মজুত থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সিন্ডিকেট বাজার অস্থিতিশীল করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

দিনাজপুরের হিলিতে একদিন আগে যেখানে পেঁয়াজের দাম ছিল কেজিতে ১০০ টাকা, সেখানে বর্তমানে তা বেড়ে ১৩০ টাকায় পৌঁছেছে। নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা দরে। হঠাৎ এ মূল্যবৃদ্ধিতে নিম্ন আয়ের মানুষ বেশি বিপাকে পড়েছেন।

হিলির ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, দেশি পেঁয়াজের মৌসুম শেষে সরবরাহ কিছুটা কমে গেছে, তাই চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম বাড়ছে। একদিনে মোকামে প্রতি মণ পেঁয়াজ ৩,২০০-৩,৩০০ টাকা থেকে বেড়ে ৪,২০০-৪,৩০০ টাকায় উঠেছে। মণ প্রতি প্রায় ১ হাজার টাকা বৃদ্ধির ফলে খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ছে।

তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ব্যবসায়ীদের এই দাবির আড়ালে রয়েছে সরকারের কাছে আমদানির অনুমতি আদায়ের কৌশল। প্রতি বছর অক্টোবরেই একই ধরনের পরিকল্পনা করে সিন্ডিকেট, যার ফাঁদে পড়ে সাধারণ ভোক্তাদের ভোগান্তি বাড়ে। প্রশাসনও থাকে প্রায় নিষ্ক্রিয়।

সিন্ডিকেটের প্রভাব রাজধানীতেও দেখা দিয়েছে। শুক্রবার কাওরান বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে কেজিতে ১৫০ টাকায়, নয়াবাজারে ১৪০ টাকায়। রামপুরা ও জিনজিরা বাজারে দাম উঠেছে ১৪০–১৬০ টাকায়। অথচ দুই দিন আগেও এসব বাজারে দাম ছিল ১১০ টাকা। অক্টোবরের শেষদিকে দাম ছিল ৭০ টাকা এবং সেপ্টেম্বরে ৬০–৬৫ টাকা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. জামাল উদ্দীন বলেন, বাস্তবে বাজারে সরবরাহ ঘাটতি নেই। সিন্ডিকেট আমদানির অনুমতির জন্য চাপ সৃষ্টি করতে কৃত্রিম সংকট তৈরির পথে হাঁটছে। এখনও দেশে এক লাখ টনেরও বেশি পুরোনো পেঁয়াজ মজুত রয়েছে বলে তিনি জানান।