নিউইয়র্কে আখতারের ওপর ডিম নিক্ষেপ, এনসিপির ক্ষোভ ও তিন দাবি

image 154

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেনকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা তাসনিম জারাও হামলার শিকার হন। ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

এনসিপি এক বিবৃতিতে এ হামলাকে ‘সন্ত্রাসী তৎপরতা’ উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং দায়ী করেছে বাংলাদেশ সরকারের ব্যর্থতাকে। এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারি আমন্ত্রণে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সফরে যোগ দিতে গিয়ে আখতার হোসেন ও তাসনিম জারা আওয়ামী লীগ সমর্থিত সন্ত্রাসীদের টার্গেটে পড়েন।

বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, “এ ঘটনা শুধু রাজনৈতিক সহিংসতা নয়, বরং রাষ্ট্রের কূটনৈতিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভয়াবহ ব্যর্থতার প্রমাণ।” প্রশ্ন তোলা হয়—যদি রাষ্ট্রীয় সফরে অংশগ্রহণকারীরাই নিরাপত্তা না পান, তবে বিদেশে কনস্যুলেট ও দূতাবাসের কার্যকারিতা কোথায়?

সরকারের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করে এনসিপি জানায়, বাংলাদেশ সরকার ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সফরসঙ্গী নেতাদের সুরক্ষা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এ অবস্থায় দলটি তিন দফা দাবি উত্থাপন করেছে—

১. বাংলাদেশ সরকারকে অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার ও নিউইয়র্ক সিটির প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানাতে হবে।
২. নিউইয়র্ক কনস্যুলেট জেনারেলসহ পুরো ফরেন সার্ভিস টিমকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে।
৩. সফরে থাকা নেতাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

এনসিপির দাবি অনুযায়ী, হামলার সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্যান্য সফরসঙ্গীরাও সেখানে ছিলেন, তবে মূল লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল এনসিপি নেতাদের। তারা অভিযোগ করে, জুলাই বিপ্লবে জীবন বাজি রাখা নেতাদের প্রতি প্রতিশোধপরায়ণতা থেকেই এই হামলা চালানো হয়েছে। আখতার হোসেনকে পূর্বে গ্রেপ্তার ও নির্যাতন করা হয়েছিল, আর আজও গণআন্দোলনের মূল্য তাকে দিতে হচ্ছে।