
পুরান ঢাকার আরমানিটোলার পানির পাম্প গলিতে রোববার (১৯ অক্টোবর) রাতে টিউশনিতে গিয়ে নির্মম হত্যার শিকার হন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জুবায়েদ হোসাইন। সেদিন বিকেল ৪টার দিকে ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষাকে পড়াতে তার বাসায় গেলে নিচতলায় বর্ষার প্রেমিক মাহীর রহমান সুইচগিয়ার দিয়ে জুবায়েদের মাথায় আঘাত করেন।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে লালবাগ জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী জানান, হামলার পর জুবায়েদ তখনও জীবিত ছিলেন। বাঁচার আশায় তিনি দোতলা থেকে উপরে ওঠেন। তিন তলায় বর্ষাকে দেখে অনুনয় করেন, “আমাকে বাঁচাও।” কিন্তু বর্ষা ঠান্ডা মাথায় বলেন, “তুমি না মরলে আমি মাহীরকে পাব না।” এরপর বর্ষা নিশ্চিত হন যে জুবায়েদ মারা গেছে। জুবায়েদ তখন দরজায় নক করেও সাহায্য পাননি।
ডিসি সামী আরও বলেন, “মেয়েটি খুব হিসাবি। একসঙ্গে দুই দিকেই সম্পর্ক বজায় রেখেছিল। ঘটনাটি মূলত একটি ত্রিভুজ প্রেম। মিন্নি ঘটনার মতোই পুরো হত্যাকাণ্ড বর্ষা পর্যবেক্ষণ করেছে।”
পুলিশ জানায়, জুবায়েদকে খুনের পরিকল্পনা করে বর্ষা ও মাহীর। মাহীরের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেও টিউশনির সময় জুবায়েদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে বর্ষার। এতে মাহীরের সন্দেহ তৈরি হয়। পরে বর্ষা মাহীরের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলেও তাকে ভুলতে পারেননি। কিছুদিন পর বর্ষা মাহীরকে জানায়, “জুবায়েদকে আর ভালো লাগে না।” এরপর দুজনে মিলে হত্যার পরিকল্পনা করে। বর্ষা এমনকি মাহীরকে বলে, “জুবায়েদকে না মারলে তুমি আমাকে পাবে না।”
২৫ সেপ্টেম্বর তারা হত্যার পরিকল্পনা করে দুটি নতুন সুইচগিয়ার চাকু কেনেন। সেই অস্ত্র দিয়েই জুবায়েদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালানো হয়।
পুলিশ আরও জানায়, এক বছর ধরে বর্ষাকে ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি ও বায়োলজি পড়াতেন জুবায়েদ। বর্ষার বাবার নাম গিয়াসউদ্দিন, আর জুবায়েদ কুমিল্লার হোমনা উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের মোবারক হোসেনের ছেলে।
মৃত্যুর পর সোমবার রাতে জুবায়েদকে তার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
মন্তব্য (0)
প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।